Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আঙুলের ছাপ, মুখের ছবি মিলিয়ে ভোট ইভিএমে! বিজ্ঞান মেলায় স্কুল পড়ুয়াদের নয়া মডেল

দিনকয়েক বাদে ওরা ভোট দেবে। তার আগে ভোটের দিনগুলো খবরের কাগজ কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখলেই হিংসার চিত্র চোখে পড়ে।

আঙুলের ছাপ, মুখের ছবি মিলিয়ে ভোট ইভিএমে! বিজ্ঞান মেলায় স্কুল পড়ুয়াদের নয়া মডেল
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দিনকয়েক বাদে ওরা ভোট দেবে। তার আগে ভোটের দিনগুলো খবরের কাগজ কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখলেই হিংসার চিত্র চোখে পড়ে। তারপর ভোটের স্বচ্ছতা নিয়েও তাদের মনে ধন্দ শুরু হয়েছে। পড়ুয়া মন এই অবস্থায় বিজ্ঞানের আশ্রয় নিয়েছে। একাদশ শ্রেণির দুই পড়ুয়া তৈরি করে ফেলেছে ‘আল্ট্রা সিকিওরিটি ভোটিং মেশিন’। যে যন্ত্রের মাধ্যমে ভোটার আঙুলের ছাপ দেবেন, ফেস রেকগনিশনও হবে, তারপরেই ইভিএমে ভোট দেওয়া যাবে। এমনই এক যন্ত্র বানিয়ে বিআইটিএম আয়োজিত কলকাতা জেলা বিজ্ঞান মেলায় হাজির পড়ুয়ারা। 

Advertisement

দু’দিন ব্যাপী এই বিজ্ঞান মেলায় যোগ দিয়েছে কলকাতার মোট ৩১টি স্কুল অংশ নিয়েছে। তারা নিয়ে এসেছে ৪৮টি সায়েন্স প্রজেক্ট। অংশ নিয়েছে ৮২ জন পড়ুয়া। দিল্লি পাবলিক স্কুল, জোকার একাদশ শ্রেণির দুই ছাত্রী মাহেরা ফারহাদ ও ধৃতি দাস তৈরি করেছে ওই ভোটিং মেশিন। তারা বলছিল, ‘আসলে আমাদের ক্লাসে এক বন্ধুর আত্মীয় একবার প্রিসাইডিং অফিসার ছিলেন। আমরা শুনেছিলাম, ভোটের দিন অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছিল তাঁকে।’ তারপর আর কয়েকবছর বাদে তারাও ভোট দেবে। সেখান থেকেই সুস্থ-অবাধ নির্বাচনের সাক্ষী থাকতে চায় তারাও। সেই উদ্দেশ্যেই এমন একটি যন্ত্র তৈরি করেছে তারা। যেখানে আঙুলের ছাপ ও মুখের ছবি মিললেই ইভিএমের ‘লক’ খুলবে। তার সঙ্গে লাগবে প্রিসাইডিং অফিসারের আঙুলের ছাপও। বিআইটিএম আয়োজিত এই বিজ্ঞান মেলা চলবে আজ, শুক্রবারেও। ধৃতি-মাহেরারা যখন ভোটের কথা ভাবছে, সাউথ পয়েন্ট স্কুলের অষ্টম শ্রেণির সৌমাল্য আঢ্য হাসপাতালের হাইজিনের কথা চিন্তা করেছে। সে একটি রোবট তৈরি করেছে। যা হাসপাতালে থাকবে। একটা সুইচ টিপলেই ওয়ার্ডে সেই রোবট ওষুধ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে আসবে। দিল্লি পাবলিক স্কুল, নিউটাউনের দুই পড়ুয়া ঈশান চৌধুরী ও সার্থক দাস আবার তৈরি করেছে ‘সাইবার শ্যু’। তাদের কথায়, জুতোতে একটা ব্যাটারি থাকবে। প্রযুক্তি এমনই যে, হাঁটাচলার চাপে সেই ব্যাটারিতে চার্জ হবে। সেই ব্যাটারি দিয়ে ফোন বা অন্যান্য জিনিসপত্র চার্জ দেওয়া যাবে। পড়ুয়াদের উদ্ভাবনের শেষ নেই। সেই উদ্ভাবনের ভাবনায় কখনও উঠে এসেছে পরিবেশ বাঁচানোর বার্তা, কখনও এসেছে এআই ব্যবহার। সব মিলিয়ে সিলেবাসের বাইরে হাতেকলমে যন্ত্র তৈরি করে বেজায় খুশি পড়ুয়ারা।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ