নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাস্তায় যত্রতত্র আবর্জনা, বা থুতু ফেললে ১ সেপ্টেম্বর থেকেই হবে মোটা টাকার জরিমানা। বৃহস্পতিবার রাজ্যের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আগামী শনিবার পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের ‘স্বচ্ছ’ অ্যাপ উদ্বোধন করবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর। রাজারহাটের একটি পাঁচতারা হোটেলে হবে অনুষ্ঠান। উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। এই অ্যাপের মাধ্যমে রাস্তায় পড়ে থাকা আবর্জনার ছবি আপলোড করলেই ১০ মিনিটের মধ্যে তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। প্রাথমিকভাবে দশটি পুরসভায় পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে এই অ্যাপ চালু হচ্ছে। এছাড়াও রাজ্যের পুর এলাকা আবর্জনা মুক্ত রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তার পর্যাপ্ত পরিকাঠামো তৈরি করতে সময় লাগবে অন্তত তিন মাস। ফলে গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর আর কোনোভাবেই যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা বরদাস্ত করবে না সরকার। সে ক্ষেত্রে তিন মাস পর থেকে, অর্থাৎ দুর্গাপুজোর আগেই চালু হবে ‘ফাইন’।
রাজ্যের ১২৮টি পুরসভার অধীনে কী পরিকাঠামো গড়তে চাইছে রাজ্য সরকার? অগ্নিমিত্রা জানিয়েছেন, ‘আসানসোল সহ ১০টি পুরসভায় অ্যাপ চালু হচ্ছে। কিন্তু, শুধু অ্যাপেই তো হবে না, পরিষেবাটাও দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে যে সমস্ত পুরসভায় প্রশাসক বসেছে, সেগুলিকে প্রাথমিক তালিকায় রাখা সম্ভব হয়নি।’ ফলে তৃণমূল পুর-প্রতিনিধিদের পদত্যাগের জেরে পরিষেবা ধাক্কা খাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি রাজ্যের পুরমন্ত্রী।
সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রত্যেক এলাকায় ১০০ মিটার অন্তর ডাস্টবিন বসবে। সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে। চিপসের প্যাকেট, ডাবের খোলা, পানের পিক রাস্তায় ফেলা যাবে না। তৎক্ষণাৎ পুর আইন মোতাবেক ফাইন করা হবে। মন্ত্রী বলেন, ‘সিঙ্গাপুর গেলে আমরা সচেতন থাকি। বড়ো বড়ো শপিং মলে যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলি না। কিন্তু রাস্তাঘাটে সেই সচেতনতা আমাদের থাকে না। এবার হবে। তিন মাস সময় দিচ্ছি। সচেতন হন এবং অন্যকেও শিখিয়ে দিন। মনে রাখতে হবে, তিন মাস পর আমার দপ্তর জরিমানা করা শুরু করবে।’
বৃহস্পতিবার ইদের সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও বিধাননগরে নগরোন্নয়ন দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন অগ্নিমিত্রা। বৈঠক শেষে তিনি জানান, শনিবার কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর কাছে রাজ্যের দাবিদাওয়া পেশ করা হবে। পালাবদলের পর বেশ কিছু নতুন কেন্দ্রীয় প্রকল্প এরাজ্যে চালু হয়েছে। সে ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প চালিয়ে যেতে অর্থ বরাদ্দের জন্যও আবেদন জানানো হবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে।