নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দীঘায় হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। আজ, মঙ্গলবার থেকেই প্রতিটি হোটেলে ভাড়ার তালিকা ঝোলানো বাধ্যতামূলক। সেই ডিসপ্লে বোর্ডে অভিযোগ জানানোর নম্বরও দিতে হবে। দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আজ, মঙ্গলবার ওই ফোন নম্বর নিউ দীঘা এবং ওল্ড দীঘার চারটি হোটেল মালিক সংগঠনকে দিয়ে দেবে। সোমবার ডিএসডিএ অফিসে চারটি হোটেল মালিক সংগঠনের কর্মকর্তাদের নিয়ে জেলা প্রশাসনের লম্বা বৈঠক হয়। সেখানে জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী, অতিরিক্ত জেলাশাসক(সাধারণ) সৌভিক চট্টোপাধ্যায় ছাড়াও কাঁথির মহকুমা শাসক এবং ডিএসডিএর নির্বাহী আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।
দীঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পরই হোটেল মালিকদের একাংশ আকাশছোঁয়া ভাড়া নিচ্ছে বলে অভিযোগ। অগ্রিম বুকিং করার পরও পর্যটকদের সঙ্গে কিছু হোটেল কর্তৃপক্ষ দুর্ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ। এরকম বেশকিছু ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। শুধু হোটেল নয়, অটো এবং টোটো ভাড়াও লাগামছাড়া নেওয়া হচ্ছে। চেনা দীঘায় এসে ভাড়া শুনে চমকে যাচ্ছেন পর্যটকরা। এনিয়ে বেশকিছু অভিযোগ আসার পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন। প্রত্যেক হোটেলে ভাড়ার তালিকা ডিসপ্লে বোর্ডে ঝোলাতে হবে। তার কপি থাকবে ডিএসডিএ এবং হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের অফিসে। ডিসপ্লে বোর্ডে অভিযোগ জানানোর নম্বরও দিতে হবে। পর্যটকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলে ফোন করে সরাসরি অভিযোগ জানানো যাবে।
সোমবারের বৈঠকে জেলাশাসক সবক’টি হোটেল মালিক সংগঠনকে ভাড়া নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, নির্ধারিত ভাড়ার থেকে এক টাকাও বেশি নেওয়া যাবে না। পর্যটকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারও নয়। চারটি সংগঠনের অধীনে ওল্ড দীঘা এবং নিউ দীঘার সবক’টি হোটেল রয়েছে। প্রত্যেক হোটেল কর্তৃপক্ষ নিজ নিজ সংগঠনের অফিসে ভাড়ার তালিকা দিতে বাধ্য। সেই তালিকা ডিএসডিএ অফিসেও পাঠাতে হবে। ভাড়া নিয়ে কোনওরকম জোরজুলুম বরদাস্ত করা হবে না। এনিয়ে অভিযোগ আসার পর তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে।
দীঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, আমাদের সংগঠনের সকল হোটেল মালিক ডিসপ্লে বোর্ডে ভাড়ার তালিকা ঝোলানোর নির্দেশ কার্যকর করেছেন। সেই তালিকা অ্যাসোসিয়েশনের অফিসেও জমা পড়েছে। একই তালিকা ডিএসডিএ অফিসে জমা দেওয়া হবে। মঙ্গলবার ডিএসডিএ অফিস থেকে একটি কমপ্লেন নম্বর দেওয়া হবে। সেই নম্বরটি ডিসপ্লে বোর্ডে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনওরকমভাবে পর্যটকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা যাবে না। এতে দীঘার হোটেল নিয়ে দুর্নাম হবে। কতিপয় হোটেল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় জড়িত। আশা করি, এবার সকলে শুধরে যাবেন।
জেলাশাসক বলেন, দীঘায় পর্যটকদের কাছ বাড়তি টাকা নেওয়া যাবে না। হোটেলে নির্দিষ্ট ভাড়াই নিতে হবে। ডিসপ্লে বোর্ডে যে রেটচার্ট থাকবে তার বাইরে টাকা নেওয়া যাবে না। এনিয়ে অভিযোগ জানানো যাবে। বোর্ডে সেই নম্বর রাখাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সোমবার থেকেই এটা কার্যকর করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফাইন হবে।