নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সময়ে মাধ্যমিকের রেজিস্ট্রেশন না করা এবং সেই সংক্রান্ত তথ্য এডিট করে জমা না দেওয়ার ঘটনায় স্কুলগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। শুক্রবার ৬০টি স্কুলকে এ সংক্রান্ত শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। শুধু জেলা নয়, খাস কলকাতার বেশ কিছু পুরোনো স্কুলও রয়েছে তালিকায়। ৬০টির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৫০টি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা তাদের প্রতিনিধি। তাঁদের বলা হয়েছে, সোমবারের মধ্যে ছাত্র পিছু ৫০০০ টাকা করে জরিমানা দিলে তবেই এই ছাত্ররা পরীক্ষায় বসতে পারবে। ফলে স্কুলগুলির মাথায় হাত পড়েছে। সব মিলিয়ে এরকম কয়েকশো ছাত্রছাত্রী রয়েছে।
সূত্রের খবর, কোনও স্কুলে পাঁচজন, কোনও স্কুলে আটজন, এমনকি ৪৩ জন ছাত্রের রেজিস্ট্রেশন হয়নি, এমন স্কুলও আছে। অন্তত ২৫টি স্কুল রয়েছে, যাদের আগের বছরের ছাত্রছাত্রীরা এ বছর মাধ্যমিকে বসতে চাইছে। কিন্তু তার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেনি স্কুলগুলি। তাই গত বছরের হাইকোর্টের নির্দেশকে হাতিয়ার করে ছাত্র পিছু পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা চেয়েছে পর্ষদ। স্কুলগুলির দাবি, আগেরবার হাইকোর্ট বিদ্যালয়গুলিকে জরিমানার অর্ডার দিয়েছিল শেষ মুহূর্তে অ্যাডমিট কার্ড ছাড়ার জন্য। এক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। একজন প্রধান শিক্ষকদের দাবি, ক্লার্ক না থাকায় প্রশাসনিক সব কাজই তাঁকে করতে হয়। বিভিন্ন কাজের মধ্যে ভুলে গিয়েছিলেন তিনি। আরেকটি স্কুলের দাবি, বছরের মাঝামাঝি তালিকা প্রকাশের পরে তিনি নথি দিতে গিয়েছিলেন। পর্ষদ সেটি এপ্রিলে দিতে বলে। পরবর্তীতে ভুলে গিয়েছিলেন তিনি। পর্ষদের এক কর্তার বক্তব্য, ‘নিজের ছাত্রছাত্রীদের নির্বিঘ্নে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসানোর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হতে পারে না। অনেকে নানা যুক্তি দিয়েছেন। সেগুলি ধোপে টিকছে না। এমন ভুল যাতে স্কুলগুলি ভবিষ্যতে না করে, তাই হাইকোর্টের আদেশকে সামনে রেখে জরিমানা চাওয়া হয়েছে।’ তবে স্কুলগুলি যেভাবে সম্ভব এই জরিমানা এড়াতে চাইছে। হাইকোর্ট গতবার সরাসরি প্রধান শিক্ষককেই জরিমানা দিতে বলেছিল। তবে, পর্ষদ তেমন কিছু বলেনি বলেই খবর। তাও স্কুলগুলির কাছে এই আর্থিক ধাক্কা সামলানো কঠিন। সেই কারণে ছাত্রছাত্রীদের মুখ্যমন্ত্রীর গ্রিভান্স সেলে ফোন করে অভিযোগ জানানোর পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে বলে খবর। সম্প্রতি উচ্চ মাধ্যমিকের ফি নিয়ে অভিযোগ তুলেছিল বিরোধীরা। এক্ষেত্রে স্কুলগুলির তরফে দাবি, তারপর এই বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সরকারই সমস্যায় পড়বে। যদিও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পর্ষদ তাদের সিদ্ধান্তে অনড়।