নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে পুরসভার পাশাপাশি লাগাতার প্রচার চালাচ্ছে পঞ্চায়েতগুলোও। কিন্তু এব্যাপারে ক্রেতা-বিক্রেতা, উভয়ের মধ্যেই আইন মানার তেমন কোনও চেষ্টা নেই বললেই চলে। তাই এবার গ্রামীণ এলাকায় ১২০ মাইক্রনের নীচে প্লাস্টিক সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করতে আইনি পথে হাঁটছে সাঁকরাইলের আন্দুল পঞ্চায়েত। ইতিমধ্যেই আইন ভঙ্গকারীদের জরিমানা করে বেশ কয়েক হাজার টাকা আদায় করেছে পঞ্চায়েত।
জানা গিয়েছে, গ্রামীণ এলাকায় বাজার থেকে গৃহস্থ বাড়ি, সর্বত্র সরকার নির্ধারিত নির্দিষ্ট ঘনত্বের চেয়ে পাতলা প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ কেনা, বিক্রি করা এমনকী ব্যবহার করার উপরেও ৫০০ টাকা জরিমানা ধার্য করেছে পঞ্চায়েত। এজন্য নির্দিষ্ট আইন তৈরি করেছে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। আন্দুল পঞ্চায়েতে মোট ৬টি বাজার কমিটি রয়েছে। ছোট-বড় দোকানের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। পঞ্চায়েতের তরফে প্রথমে বাজার কমিটিগুলোর সঙ্গে আলাদা আলাদা ভাবে বৈঠক করে ১২০ মাইক্রনের নীচে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের ব্যবহার বন্ধের বিষয়ে সচেতন করা হয়। এরপর প্রায় এক মাস ধরে এলাকায় এলাকায় ধারাবাহিক প্রচার অভিযান চলে। প্লাস্টিকের পরিবর্তে কাপড়ের ব্যাগ ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য দোকানদারদের উৎসাহিত করা হয়। পঞ্চায়েতের তরফে কাপড়ের ব্যাগের নমুনাও তুলে দেওয়া হয় দোকানিদের হাতে।
শুধু বাজার কমিটি নয়, পঞ্চায়েতের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের নিয়ে বুথগুলিতে বৈঠক করে বোঝানো হয় মানুষকে। আন্দুল পঞ্চায়েতের প্রধান তানজিলা তরফদার বলেন, বর্ষাকাল মানেই জমা জলের সমস্যা। শুধুমাত্র প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের কারণেই নিকাশির অবস্থা বেহাল হয়ে পড়ে। প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে আমাদের প্রত্যেককেই সচেতন হতে হবে। পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, বারবার প্রচার করা সত্ত্বেও যাঁরা প্লাস্টিকের কেনাবেচা ও ব্যবহার করে যাচ্ছেন, তাঁদের ধরে ধরে ৫০০ টাকা করে জরিমানা ধার্য করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৩০০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে আন্দুল পঞ্চায়েত। কম ঘনত্বের প্লাস্টিকের ব্যবহার কমতে থাকায় আগামী বর্ষায় নিকাশির সমস্যা সেরকম হবে না বলে দাবি ব্লক প্রশাসনের।
সাঁকরাইলের বিডিও সৈকত দে বলেন, আগামীতে একে একে সব পঞ্চায়েতেই এই ব্যবস্থা চালু করা হবে। প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতেই হবে। যদিও ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনেকেই বলছেন, পরিবেশ বাঁচানোর ক্ষেত্রে কিছু আইন এমনই কড়াকড়ি হওয়া উচিত। প্রশাসনের পদক্ষেপ প্রশংসাযোগ্য।