নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: গোল্ড লোন প্রক্রিয়া নিয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বনাম কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের বিরোধ তুঙ্গে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক গোল্ড লোন আবেদন ও অনুমোদন পদ্ধতিতে আরও কড়াকড়ি আনার পক্ষে। যাতে ঋণপ্রাপক ও ঋণদাতা—উভয় পক্ষেরই ঝুঁকির সম্ভাবনা কমে যায়। কিন্তু সেই নিয়ম চালু করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্কর নিয়মের বেড়াজালে সাধারণ মানুষের লোন পাওয়ার সম্ভাবনায় জটিলতা আসবে। এমনই আশঙ্কায় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নতুন প্রস্তাব ও সুপারিশের বিরোধিতা করেছে অর্থমন্ত্রক। এমনকী অবিলম্বে যে নতুন গোল্ড লোন বিধি চালু হওয়ার কথা ছিল, তা পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলেছে অর্থমন্ত্রক। রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে লিখিতভাবে নতুন বিধিনিয়মে আপত্তি তুলে অর্থমন্ত্রক জানিয়েছে, সাধারণ গরিব-মধ্যবিত্তের কথা চিন্তা করে এই সিদ্ধান্ত সংশোধন করা উচিত। অন্তত ২ লক্ষ টাকার কম গোল্ড লোন যারা নেয়, তাদের এই নিয়মের বাইরে রাখাই শ্রেয়।
শেষ ভরসা সোনা! আদি অনন্তকাল ধরে গরিব, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ভারতবাসীর কাছে আর্থিক প্রয়োজনে ঘরের সোনা-গয়না পরিত্রাতা। বাড়ি তৈরি অথবা সন্তানের শিক্ষা। মেয়ের বিবাহ কিংবা বিপুল চিকিৎসাব্যয়। অর্থ সংগ্রহের সব পথ যখন সমাপ্ত, তখন একমাত্র দিশা হিসেবে থেকে যায় সোনা বন্ধক রেখে ঋণ কিংবা ঘরের গহনা বিক্রি। সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাঙ্ক ও বিভিন্ন নন ব্যাঙ্কিং আর্থিক সংস্থার বাণিজ্য মডেলে সবথেকে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে গোল্ড লোন। একদিকে গোল্ড লোন নেওয়া বাড়ছে আবার অন্যদিকে সোনার দাম প্রতিদিনই রেকর্ড করছে। এমতাবস্থায় সোনা জমা দিয়ে ব্যাঙ্ক ও নন ব্যাঙ্কিং আর্থিক সংস্থাগুলি থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বহু অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও ক্রমবর্ধমান। গোল্ড লোনের অনিয়ম প্রতিরোধে রিাজর্ভ ব্যাঙ্ক নতুন একঝাঁক নির্দেশিকা ও বিধি নিয়ম চালু করার সুপারিশ করেছে। যাকে ব্যাঙ্কিং পরিভাষায় বলা হচ্ছে কোল্যাটারাল লোন। অর্থাৎ এবার থেকে গোল্ড লোনও হবে কোল্যাটারাল। কোল্যাটারাল বিধির অধীনে কোনও লোন এলে, সেটি যেমন নিরাপদ হয় ব্যাঙ্কগুলির কাছে, তেমনই আবার ঋণগ্রহীতার সুবিধা কমে যায়। যতটা লোন পাওয়ার কথা, সেই অঙ্ক কমে যাবে। কারণ, লোন টু ভ্যালু নামক অনুপাত কমবে। অর্থাৎ যে পরিমাণ সোনা জমা রাখলে যত টাকা লোন সাধারণভাবে পাওয়ার কথা, কোল্যাটারালে সেই অর্থ আর পাওয়া যাবে না। লোন মঞ্জুর হওয়ার পরিমাণ কমে যাবে। এছাড়াও যে সোনা জমা রাখা হচ্ছে, তার বিস্তারিত কাগজপত্র, রশিদ, এনওসি, ডিক্লারেশন ইত্যাদি অনেক জটিলতা থাকবে। এতে সাধারণ মানুষের সমস্যা বাড়বে। তাই ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে যাতে এই নতুন নিয়ম চালু না হয়, সেই প্রস্তাবই দিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক।