নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নেহাত লোকমুখে কিংবা সরকারি সূত্রে নয়। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের ডিপার্টমেন্ট অব ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের সচিব এম নাগারাজু সম্প্রতি নিজেই হাজির হয়েছিলেন, একাধিক সরকারি ব্যাঙ্কে। সারপ্রাইজ ভিজিটে। অর্থাৎ ব্যাঙ্ক পরিষেবা কেমন চলছে সেটা চাক্ষুষ করার জন্য। সর্বোচ্চ স্তরের অর্থমন্ত্রকের কর্তা। সুতরাং তিনি পরিদর্শনে আসছেন, এটা আগেই জানিয়ে দিলে প্রত্যাশিতভাবেই নিখুঁত পরিষেবা চিত্রই দেখা যাবে যে কোনও সরকারি ব্যাঙ্কের শাখায়। তাই না জানিয়ে সরকারি ব্যাঙ্কে উপস্থিত হওয়া। তাঁর অভিজ্ঞতা গ্রাহক পরিষেবার নিরিখে রীতিমতো উদ্বেগজনক। একটি ব্যাঙ্কে তিনি ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে এক ঘণ্টার বেশি বসে থেকেছেন। আবার অন্য ব্যাঙ্কে আসা গ্রাহকদের সঙ্গে ব্যাঙ্ক কর্মীদের ব্যবহার ও আচার আচরণ দিখে তিনি ক্ষুব্ধ। আর এই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার জেরেই অর্থমন্ত্রকের ডিপার্টমেন্ট অব ফিনান্সিয়াল সার্ভিস সরকারি ব্যাঙ্ক কর্তাদের কড়া নির্দেশিকা দিয়েছে।
বলা হয়েছে, গ্রাহকদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করুন। গ্রাহকদের উপেক্ষা করা, তাচ্ছিল্য করা, অবহেলা করা কিংবা পরিষেবা না দেওয়ার শাস্তি হবে। কোনও অভিযোগ পাওয়া গেলেই শাস্তিমূলক বদলি করে দেওয়া হবে। কর্ণাটকের স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার যেমন কন্নড় ভাষা বলতে রাজি না হয়ে গ্রাহকদের বলেছেন, আমি হিন্দিই বলব, কন্নড় বলব না। ওই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর প্রাথমিক তদন্তের পর সেই ম্যানেজারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার আবার একপ্রস্থ নির্দেশিকা দেওয়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও একটি কাজ কেন করা সম্ভব নয়, সেটা শান্তভাবে বুঝিয়ে বলতে হবে। উদ্ধত আচরণ বরদাস্ত নয়। অর্থমন্ত্রক নির্দেশিকায় বলেছে, গ্রাহকদের এখন অনেক বিকল্প আছে। এটা অতীত নয় যে, একটি ব্যাঙ্কের উপরই গ্রাহক নির্ভরশীল। সব পরিষেবাই বেসরকারি ব্যাঙ্কও দেয়। তাই গ্রাহক যদি ক্ষুব্ধ হয়ে সরকারি ব্যাঙ্ক থেকে চলে যায়, তাহলে সেটা সরকারি ব্যাঙ্কিং সেক্টরের ক্ষতি। গ্রাহকদের আরও বেশি করে অভিযোগের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য একাধিক অনলাইন ব্যবস্থাও করা হচ্ছে এবার। ব্যাঙ্ক কর্তাদের অর্থমন্ত্রক নির্দেশ দিয়েছে, বিভিন্ন ব্রাঞ্চ ম্যানেজারদের পারফরম্যান্স রিভিউ করার ব্যবস্থা করা হোক। নিয়ম করে এই রিভিউ করে রদবদলের সিদ্ধান্তও নিয়মিত হোক। একাধিক রিভিউর পরও যদি দেখা যায়, পরিষেবা সন্তোষজনক নয়, তাহলে সেই কর্মী অফিসারদের সরিয়ে দেওয়া হবে অন্য ব্রাঞ্চে।