


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত পাঁচবছর বা তা বেশি সময় ধরে বিভিন্ন প্রকল্প বা খাতের টাকা যা কাজে লাগছে না, তা ফেরত দেওয়ার জন্য বিভিন্ন দপ্তরকে সম্প্রতি নির্দেশ জারি করেছে অর্থদপ্তর। বিভিন্ন ধরনের ডিপোজিট অ্যাকাউন্টে জমে থাকা টাকা আগামী ৩১ মে’র মধ্যে ফেরত দিতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন কাজের জন্য বাজেট বরাদ্দ টাকা দপ্তরগুলিকে বরাদ্দ করে অর্থদপ্তর। অর্থবর্ষের মধ্যে কোনও নির্দিষ্ট খাতের টাকা খরচ করতে না-পারলে সংশ্লিষ্ট অফিস বা বিভাগের সেই টাকা এলএফ-পিএল প্রভৃতি ডিপোজিট অ্যাকাউন্টে রেখে দেওয়ার প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। ব্যাঙ্কে ফিক্সড ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা রেখে যে সুদ পাওয়া যায় সেটাও অফিসগুলি বিভিন্ন কাজে খরচ করে।
কাজের জন্য বরাদ্দ অর্থ খরচ না-হওয়ায় অ্যাকাউন্টে পড়ে থাকার এই প্রবণতা বন্ধ করার জন্য রাজ্য অর্থদপ্তর কয়েকবছর ধরেই সক্রিয়। এই ব্যাপারে ২০১৭ সাল থেকে অর্থদপ্তর নির্দেশিকা জারি করে আসছে। অ্যাকাউন্টে পড়ে থাকা টাকা নিয়ে একাধিক গাইডলাইনও আগে দিয়েছে অর্থদপ্তর। এবার সব দিক পর্যালোচনা করে পাঁচবছর বা তার বেশি সময় ধরে কাজে লাগছে না, এমন খাতের পড়ে থাকা টাকা ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থদপ্তর। ২০০০ সালের মার্চ মাস বা তার আগে থেকে পড়ে থাকা টাকা ফেরত দিতে হবে দপ্তরগুলিকে। নির্দিষ্ট প্রোফর্মায় বিস্তারিত তথ্য পেশ করে টাকা ফেরত পাঠাতে হবে। তবে অর্থদপ্তর ১২টি ক্ষেত্র নির্দিষ্ট করে জানিয়েছে, সেগুলি টাকা ফেরত দেওয়ার আওতায় পড়বে না। এর মধ্যে বিধায়ক ও সাংসদের এলাকা উন্নয়ন তহবিল, আরআইডিএফ-সহ বাইরে থেকে আসা টাকায় চলা প্রকল্প, জমি কেনার জন্য বরাদ্দ টাকা প্রভৃতি।
বিভিন্ন দপ্তরের অব্যবহৃত টাকা ফিরিয়ে তা অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারবে সরকার। যদি কোনও দপ্তর বা অফিস মনে করে, বিশেষ কারণে ওই টাকা রেখে দেওয়ার প্রয়োজন, অর্থদপ্তরকে বিশদে জানিয়ে তার অনুমোদন নিতে হবে। অনুমোদন ছাড়াই টাকা আটকে রাখলে অর্থদপ্তর ওই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে টাকা নিয়ে নিতে পারবে।