নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী। মঙ্গলবার চন্দননগরের আলোহাবে একটি প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন তথ্যসংস্কৃতি দপ্তরের সচিব সৌমিত্র মোহনও। বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে, চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোকে রাজ্য সরকার ‘রাজ্য উৎসব’ হিসাবে ঘোষণা করেছে। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার কারণে চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোতে ব্যাপক ভিড় হয়। সম্প্রতি কলকাতায় দুর্গাপুজোর সময় ভিড়ের দাপটে দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সেই দু’টি বিষয়কে মাথায় রেখে পুজোপর্বে আনন্দ ও নিরাপত্তার যুগলবন্দি সংগঠিত করতে এদিনের বৈঠক করা হয়েছে। বৈঠকে দুই মন্ত্রীই জানিয়েছেন, পুজোর খ্যাতি বৃদ্ধি ও নিরাপত্তার জন্য রাজ্য সরকার সবরকম ব্যবস্থা করবে।
এদিনের বৈঠকে জেলার পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পুজোকে কেন্দ্র করে একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনার কথা মন্ত্রীরা জানান। ছটপুজো, কালীপুজো ও কার্তিক পুজোর সময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী কয়েকটি মণ্ডপ পরিদর্শন করতে যান। তিনি বলেন, চোরবাগান থেকে আমরা বড়ো শিক্ষা নিয়েছি। তাই চন্দননগরের জগৎখ্যাত জগদ্ধাত্রী পুজোকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তায় কোনো ত্রুটি যাতে না থাকে তা নিশ্চিত করা হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে শুরু করে সবরকম পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও প্রশাসন তৈরি থাকবে। তিনি জানান, চন্দননগরের আলোকে শো-কেস করার বিষয়টিও রাজ্য সরকার গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়িত করবে। অন্যদিকে পুরমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার ১৫ বছর সময় পেয়েছে কিন্তু আলোকশিল্পীদের প্রকৃত উন্নয়নে কাজ করেনি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, ইন্দ্রনীল সেনদের মতো লোককে নিয়ে ধাপ্পাবাজি করেছেন। আমরা চন্দননগরের খ্যাতিবৃদ্ধি থেকে নিরাপত্তার বিষয়ে যোগ্য পদক্ষেপ করব। চন্দননগরের আলোকশিল্পীরা উল্লেখযোগ্য কাজ করেন, তাঁদের আমরা যোগ্যমর্যাদা দিয়ে কাজে লাগাব।
এদিনের বৈঠকে জগদ্ধাত্রী ও ছটপুজোকে কেন্দ্র করে গঙ্গাপাড়ের সৌন্দর্যায়ন, আলোকময় করে তোলার কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ফরাসি স্থাপত্যকে সাজিয়ে তোলা ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিয়ে একটি গ্যালারি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নিজস্ব চিত্র



