Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শেষমেশ মৃত্যু হল চন্দননগরের বনেদি বাড়ির বৃদ্ধ একেন্দ্রনাথের

শেষমেশ মৃত্যু হল চন্দননগরের  বনেদি বাড়ির বৃদ্ধ একেন্দ্রনাথের
  • ৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: শেষ পর্যন্ত মারাই গেলেন চন্দননগরের বনেদি বাড়ির বৃদ্ধ ব্যবসায়ী একেন্দ্রনাথ দাস (৮৯)। শনিবার দুপুরে বাসিন্দাদের এবং পুরসভার কাউন্সিলার শুভজিৎ সাউয়ের উদ্যোগে তাঁকে কলকাতা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু শনিবার মধ্যরাতের পরে তিনি মারা যান। রবিবার তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্ত করিয়ে চন্দননগরে ফেরানো হয়েছে। একেন্দ্রবাবুর মৃত্যু হলেও তাঁর পরিবারের একাধিক মৃত্যু রহস্যের জট খুলল না। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, জট আরও জটিল হয়ে গেল। কারণ, সমস্ত ঘটনার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী বা সাক্ষী ছিলেন একেন্দ্রবাবু। তাঁর স্ত্রী সুনীতাদেবীকে শুক্রবারই মৃত অবস্থায় বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তাঁদের একমাত্র সন্তান মধ্যবয়স্কা শর্মিষ্ঠাদেবীর মানসিক ভারসাম্যের ত্রুটি আছে বলেই জানা গিয়েছে। ফলে, সাবেক বনেদি দাস পরিবারের সঙ্গে ঠিক কী হয়েছিল সেই রহস্যের পর্দা ঘটনার দু’দিন পরেও উঠল না। অন্তত তথ্যাভিজ্ঞ মহল তেমনটাই মনে করছেন। 

Advertisement

এদিন শুভজিৎবাবু বলেন, একটা চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই বৃদ্ধকে বাঁচানো যায়নি। শনিবার তাঁকে চন্দননগর হাসপাতাল থেকে তাঁর এক আত্মীয় বাড়িতে ফিরিয়ে এনেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, বাড়িতেই ভালো চিকিৎসা হবে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না। প্রতিবেশীদের আবেদনে সাড়া দিয়ে আমরা একটা চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু দুঃখজনক পরিণতি মেনে নিতে হচ্ছে। চন্দননগর থানার পুলিস অবশ্য দাবি করেছে, ঘটনার যথাযথ তদন্ত চলছে।
প্রসঙ্গত, একদা বিত্তবান ছিল দাস পরিবার। চন্দননগরের মানুষ একডাকে ওই পরিবারকে চেনেন। বৈদ্যপোঁতা মোড়ে বিরাট এলাকাজুড়ে দাস পরিবারের বনেদি বাড়ি। সেখানেই বৃদ্ধ একেন্দ্রবাবু তাঁর স্ত্রী ও বিবাহবিচ্ছিন্না মধ্যবয়সি মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। শুক্রবার সকালে সেখান থেকেই একেন্দ্রবাবুর স্ত্রীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। তিনিও অসুস্থ ছিলেন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 
তাঁর মেয়ে দাবি করেছিলেন, অনটনের কারণে তাঁরা তিনজনেই ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। যদিও শর্মিষ্ঠাদেবীর শরীরে ওষুধের কোনও প্রভাব প্রকাশ্যে আসেনি। শনিবার গভীর রাতে একেন্দ্রবাবুর মৃত্যু হলেও রহস্য এখনও রয়েই গেল। এমনটাই মনে করছেন বাসিন্দারা।  ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ