


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তীব্র গরম উপেক্ষা করেও রেকর্ড ভাঙা ভোটদান। উৎসবের মেজাজে মহিলা ভোটারদের উৎসাহ। এবং এসআইআরের প্রতিবাদে ক্ষোভের বিস্ফোরণ। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার নির্বাচনের পর বিজেপির শীর্ষ থেকে নীচুতলা, প্রত্যেকেই বিস্তর চাপে। এই বিপুল ভোটদান যে তাঁদের পক্ষে গিয়েছে, এমনটা বলছে না গেরুয়া অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট। বৃহস্পতিবার দলবদলু বিজেপি নেতার ১২৫’এর দাবি স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্যে নেমে এসেছে ১১০’এ। এখানেও পালটা আক্রমণের পথে গিয়েছে তৃণমূল। তাদের সাফ দাবি, মুর্শিদাবাদ-মালদহ-দিনাজপুরের সংখ্যালঘু প্রভাবিত এলাকা নিশ্চয়ই বিজেপিকে ঢেলে ভোট দেয়নি? আর একের পর এক লাইনে মহিলাদের চোখেমুখে এসআইআরের হয়রানির বিরুদ্ধে যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গিয়েছে, সেটাও নিশ্চয়ই বিজেপির ভোটবাক্সে যায়নি?
শুক্রবার কমিশন প্রথম দফায় চূড়ান্ত ভোটের হার জানিয়ে দিয়েছে—৯২.৮৮ শতাংশ। আর জেলায় জেলায় ‘ট্রেন্ড’ বিশ্লেষণের পর এটাকেই ইতিবাচক হিসাবে দেখছে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে অভিষেক, প্রত্যেকেই আত্মবিশ্বাসী—জয়ের সরণিতে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে তৃণমূল। উত্তরবঙ্গে যে জেলা নিয়ে তৃণমূল বাড়তি আশাবাদী ছিল, সেই কোচবিহারেই ভোট পড়েছে সর্বাধিক—৯৬.০৪ শতাংশ। এ ছাড়া দক্ষিণ দিনাজপুরে ৯৫.৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। ৯৪ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে জলপাইগুড়ি, মালদহ, বীরভূম এবং উত্তর দিনাজপুরে। দার্জিলিং ও কালিম্পঙে ভোটের হার ৯০ শতাংশের নীচে। বাকি জেলাগুলিতেও ভোটের হার ৯০-এর গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ছিল কমিশনের সঙ্গে ডিইওদের বৈঠক। স্ক্রুটিনি সম্পূর্ণ না হওয়ায় সেখানে পুনর্নির্বাচন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সূত্রের খবর, কোনো রাজনৈতিক দলও রিপোলের দাবি জানায়নি। কমিশন সব খতিয়ে দেখে আজ, শনিবার সিদ্ধান্ত নেবে।