রামকৃষ্ণ বর্মন, মেখলিগঞ্জ: দেবীপক্ষের সূচনা হতেই শহরজুড়ে শুরু হয়েছে দুর্গোৎসবের জোর প্রস্তুতি। কোচবিহার জেলার সীমান্ত শহর মেখলিগঞ্জও এবারে মেতে উঠবে পুজোর মহোৎসবে। শরতের হাওয়ায় পুজোর ঘ্রাণ মিশে যেতেই শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ। শহরের পুজোগুলির মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত পশ্চিমপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি। এবছর এই পুজো পদার্পণ করছে ২০তম বছরে। মণ্ডপসজ্জায় থাকছে দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের প্রতিরূপ। বাজেট প্রায় ৮ লক্ষ টাকা। প্রতিমা গড়ছেন হলদিবাড়ির শিল্পী বাবু পাল। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, পঞ্চমীর দিন হবে জমকালো উদ্বোধন। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করার সম্ভাবনা রয়েছে। পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা দিব্যায়ন সরকার জানান, গতবারের মতো এবারও পুজোকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় বিধায়ক পরেশচন্দ্র অধিকারীও জানিয়েছেন, তিনি পুজোর কদিন মণ্ডপেই কাটানোর চেষ্টা করবেন।
এছাড়া মেখলিগঞ্জ শহরের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে শতাব্দী প্রাচীন মদনমোহন বাড়ির দুর্গোৎসব। ষষ্ঠী থেকেই শুরু হয় এখানে মেলা, যা বিজয়া দশমী পর্যন্ত চলে। প্রতিমা গড়ছেন রায়গঞ্জের শিল্পী। আর মণ্ডপ ও আলোকসজ্জার দায়িত্বে রয়েছেন স্থানীয় শিল্পীরা। উদ্যোক্তা শুভজিৎ ভৌমিক জানিয়েছেন, পূর্বের মতোই ঐতিহ্য ও নিয়ম-নিষ্ঠা মেনে এবছরও পুজো অনুষ্ঠিত হবে।
শহরের বিভিন্ন প্রান্তে আরও একাধিক উল্লেখযোগ্য পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। সরকারপাড়া, পুরাণ বাজার, কালীপাড়া, কদমতলা কালচারাল, বাজার ব্যবসায়ী সমিতি ও অধিকারী পাড়ার দুর্গোৎসব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ঘোষপাড়ার বন্ধু দল ক্লাবের পুজোও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। সিংহপাড়ায় মহিলা পরিচালিত দুর্গোৎসব মেখলিগঞ্জ শহরের পুজোর আবহে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে। দুর্গাপুজো এখানে শুধু প্রতিমা বা মণ্ডপসজ্জায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামাজিক মিলনমেলারও প্রতীক। পুজোর দিনগুলিতে শহরজুড়ে ভিড় জমে বাজারে, দোকানপাট ও মেলায়। আলো, রং, ভক্তি আর আনন্দে ভেসে যাবে মেখলিগঞ্জ শহর। এমনটাই প্রত্যাশা করছেন পুজো উদ্যোক্তারা।