প্রিয়ব্রত দত্ত: চমক, আবেগ আর মন খারাপের মন্তাজে শেষ হল সাতদিন ব্যাপী ৩১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। বৃহস্পতিবার বিকেলে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সেরা চমক ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষায়, ‘আমার আসার কথা ছিল না। আমি এখানে সারপ্রাইজ ভিজিট করতে এসেছি।’ পুরস্কার মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলনে চলচ্চিত্র শিল্পকেও যুক্ত করার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্পকে বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলনে এবার থেকে যুক্ত করা হবে। কিফ জনগণের উৎসব। পরের বছর আরও বড় করে উৎসব হবে।’ দেশি-বিদেশী অতিথি তথা জুরি সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁদের এ রাজ্যে সিনেমা তৈরির আহ্বান জানান মমতা। মঞ্চে সেরা ছবি, পরিচালকের নাম ঘোষণা করে রয়াল বেঙ্গল টাইগার পুরস্কার দেন মুখ্যমন্ত্রী।
ডেভিড বিম পরিচালিত কিউবার ছবি ‘টু দ্য ওয়েস্ট ইন জাপাটা’ পেয়েছে সেরা ছবির পুরস্কার ও ৫১ লক্ষ টাকা। শ্রীলঙ্কার পরিচালক ললিত রাত্নায়েকে পেলেন শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার ও ২১ লক্ষ টাকা, ‘রিভারস্টোন’ ছবির জন্য। এই বিভাগে বিশেষ জুরি পুরস্কার পেল ক্রোয়েশিয়ার ছবি ‘বিউটিফুল ইভনিং, বিউটিফুল ডে’। ফিপ্রেসকি জীবনকৃতি সম্মান পেলেন পরিচালক গৌতম ঘোষ। পুরস্কার হাতে দৃশ্যত ভেঙে পড়েন গৌতম। তাঁর সদ্য প্রয়াত স্ত্রী নীলাঞ্জনা ঘোষকে উৎসর্গ করেন এই সম্মান। ‘টু দ্য ওয়েস্ট ইন জাপাটা’ও পেল ফিপ্রেসকি পুরস্কার। হীরালাল সেন মেমোরিয়াল শ্রেষ্ঠ ছবির সম্মান পেল ত্রিবেণী রাই পরিচালিত ছবি ‘সেপ অব মোমো’। এই বিভাগে সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেলেন প্রদীপ কুরভা ‘হা লিংখা বেং’ ছবির জন্য। বেঙ্গলি প্যানোরামা বিভাগে সেরা ছবি নির্বাচিত হল চন্দ্রাশিস রায়ের ‘পড়শি’। এশিয়ান সিলেক্ট (নেটপ্যাক অ্যাওয়ার্ড) পেল শিবরঞ্জনি পরিচালিত ছবি ‘ভিক্টোরিয়া’। সেরা শর্ট ফিল্ম জয়দীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বিজয়ী যাপনের পটকথা’। এই বিভাগে ‘জিলিপিবালার বন্ধুরা’ ও ‘মাই লাস্ট ফেস: কুংবারা’ পেল বিশেষ জুরি পুরস্কার। ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের নৃত্যানুষ্ঠান ছিল শেষদিনের বিশেষ আকর্ষণ। এদিন ঋত্বিক ঘটকের সঙ্গে কাজ করেছেন এমন শিল্পীদের সম্মান জানানো হয়। উপস্থিত ছিলেন ঋত্বিকের পরিবারের সদস্যরাও।