নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চললেও কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না জলপাইগুড়ির শোভাবাড়ি ভাটাখানার পাশের জলাজমি ভরাটের কাজ। পরিবেশপ্রেমীদের একাধিক অভিযোগ, প্রতিরোধ, ক্ষোভ প্রকাশের পরেও স্থানীয়দের একাংশের মদতে লাগাতার চলছে জলপাইগুড়ি থেকে হলদিবাড়ি যাওয়ার রাস্তার খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ইটভাটা সংলগ্ন জলাশয় ভরাটের কাজ। দিনভর বড়োবড়ো ডাম্পারে, লরিতে করে বালি ভরে নিয়ে এসে এই জলাজমি ভরাটের কাজ করা হচ্ছে। পুজোর আগেও এ বিষয়ে পরিবেশপ্রেমীদের তরফে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অভিযোগ জানালেও কেউ কিছুই করেনি বলে তাঁরা অভিযোগ করেছেন। ফলে এই কাজ ঠিকভাবে সম্পন্ন করা গেলে আগামীতে জলপাইগুড়ির বিভিন্ন এলাকার জলাজমি ভরাটের ক্ষেত্রে জমি কারবারিদের আর কোনো অসুবিধাই থাকবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন পরিবেশপ্রেমীরা।
উল্লেখ্য, জলপাইগুড়ির শোভাবাড়ির এই এলাকায় রাস্তার দু’ধারে বেশ কয়েকটি জলাশয়ে বছরের এই সময়ে শীতপ্রধান দেশগুলি থেকে পরিযায়ী পাখিরা এসে ভিড় জমায়। তাদের পাখার ঝটপটানি এবং ডাকে মন ভরে যায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পরিবেশপ্রেমীদের। স্থানীয় পরিবেশপ্রেমীদের দাবি, বহু বছর ধরে পরিযায়ী পাখিদের জলাশয়ে আসা-যাওয়া দেখে আসছেন জলপাইগুড়িবাসী। জলপাইগুড়ি থেকে হলদিবাড়ির দিকে যেতে হাতের বাঁ দিকে এখনও সেই ছবি ধরা পড়ে। এবারও পরিযায়ী পাখিরা এসে ভিড় জমিয়েছে জলাশয়গুলিতে। তবে রাস্তার ডান দিকে ইটভাটার জমি থেকে উধাও পাখিরা। সেখানে জলাজমির পরিবর্তে দেখা যাচ্ছে বড়োবড়ো ডাম্পার আর ট্রাক্টর। মাটি ভরে সেই জায়গাটি সমান করে দেওয়ার কাজ চলছে।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস আমলে প্রথম দিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে নামেন পরিবেশপ্রেমীরা। সেই সময় এলাকাবাসীর একাংশকে তাঁরা পাশে পেয়েছিলেন। তবে বর্তমানে তাঁদের কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জমি ভরাটের মাস্টারমাইন্ডরা নিজেদের পক্ষে করে নিয়েছে। জমি ভরাটের ঘটনার খবর করতে গিয়ে এলাকাবাসী বা যারা এই কাজ করছে তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলেও কেউ মুখ খুলতে চাননি। কে কীভাবে এই কাজ করছে সেই বিষয়েও মুখে কুলুপ এঁটেছেন তাঁরা। যদিও প্রশাসনের আধিকারিকরা পরিবেশপ্রেমীদের অভিযোগপত্র পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ঘটনাটি ভালো করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জমিটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন কি না তাও দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে জলপাইগুড়ির পরিবেশপ্রেমী বিশ্বজিৎ দত্ত চৌধুরী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই এই কাজের বিরোধিতা করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের আশঙ্কা, এর ফলে জীববৈচিত্র এবং পরিবেশের ভারসাম্য হারিয়ে যাবে। আমরা বারবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনের আলোতেই জলাশয় ভরাটের কাজ চলছে। এভাবে চলতে পারে না। পরিবেশের স্বার্থে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে। • ভরাট করা হচ্ছে জলাশয়। - নিজস্ব চিত্র।



