Bartaman Logo
৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুরানোদের সঙ্গে নিয়েই হবে লড়াই, বসিরহাটের সভায় কড়া বার্তা মমতার

বসিরহাট উত্তর ও বসিরহাট দক্ষিণের প্রার্থীদের স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এলাকায় বেশি সময় দিতে হবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে। বিদায়ী বিধায়কদের কর্মসূচিতে রাখতে হবে। শুক্রবার গোপালপুর মাঠের সভা থেকে মহারণ-২৬’এর যুদ্ধের ‘নিদান’ ঠিক করে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

পুরানোদের সঙ্গে নিয়েই হবে লড়াই, বসিরহাটের সভায় কড়া বার্তা মমতার
  • ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বসিরহাট: বসিরহাট উত্তর ও বসিরহাট দক্ষিণের প্রার্থীদের স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এলাকায় বেশি সময় দিতে হবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে। বিদায়ী বিধায়কদের কর্মসূচিতে রাখতে হবে। শুক্রবার গোপালপুর মাঠের সভা থেকে মহারণ-২৬’এর যুদ্ধের ‘নিদান’ ঠিক করে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।  

Advertisement

শুক্রবার বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তৌসিফুর রহমানের ভোটপ্রচারে আসেন মমতা। এদিনের এই সভা কার্যত নির্বাচনি প্রচারের পাশাপাশি দলীয় বার্তা ছড়ানোর মঞ্চ হয়ে ওঠে। মমতার বক্তব্যে স্পষ্ট, লড়াই শুধু বিরোধীদের বিরুদ্ধে নয়—দলের ভেতরের ঢিলেমি, বিভাজন এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিরুদ্ধেও। প্রার্থীদের উদ্দেশে তাঁর সোজাসাপ্টা নির্দেশ—মাঠে নামুন, মানুষের মধ্যে থাকুন, এলাকায় সময় দিন। ভোট মঞ্চে নয়, সংগঠনের ভিতেই জেতা হয়। সভায় সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত আসে বসিরহাট দক্ষিণের বিদায়ী বিধায়ক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গে। তাঁকে এবার টিকিট দেওয়া হয়নি। সেই সিদ্ধান্তের কথা নিজেই স্বীকার করেন মমতা। তবে সঙ্গে সঙ্গেই দলের অভিভাবিকার আশ্বাস, ‘দলে বৃহত্তর সম্মান দেওয়া হবে।’ রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বার্তা কেবল সান্ত্বনা দেওয়া নয়—এটি দলীয় শৃঙ্খলার ইঙ্গিতও। টিকিট না পাওয়া মানেই শেষ নয়। দলীয় অনুশাসন সবার আগে—এই বাস্তবতাই তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও বিদায়ী বিধায়কদের কর্মসূচিতে রাখার মমতার নির্দেশেও কৌশল স্পষ্ট। কাউকে পুরোপুরি সরিয়ে না রেখে সংগঠনের ভেতরেই ধরে রাখা। এতে একদিকে ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, অন্যদিকে অভিজ্ঞতাকেও কাজে লাগানো সম্ভব হয়। তবে নিয়ন্ত্রণ থাকবে নেতৃত্বের হাতেই, সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন বাংলার ‘পাহারাদার’। এই প্রসঙ্গে সপ্তর্ষি বলেন, আমি দলের একজন সাধারণ কর্মী। তাই দল যেভাবে কাজে লাগাবে সেটাই করব। নেত্রী আমার মতো তুচ্ছ কর্মীরা নাম মনে রেখেছেন, তাতেই আমি ধন্য। এদিন সভামঞ্চ থেকে ‘জোড়া ফুলে ভরসা’ রাখার ডাক দেন মমতা। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার যুক্তি তুলে ধরেন। বিরোধীদের কটাক্ষ করে বলেন, বাংলায় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। তার জবাব দিতে হলে সংগঠিত লড়াই জরুরি। বসিরহাটের মতো সীমান্তবর্তী এলাকায় এই বার্তার রাজনৈতিক গুরুত্ব আলাদা বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে এই সভার আরেকটি দিক নজর কেড়েছে। বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে মমতা বারবার ইঙ্গিত দেন, দলের নীচুতলার খবর তাঁর অজানা নয়। প্রার্থী নির্বাচন, স্থানীয় অসন্তোষ, সংগঠনের টানাপোড়েন সবই তাঁর নজরে। এতে একদিকে কর্মীদের কাছে সতর্কবার্তা যায়, অন্যদিকে সম্ভাব্য বিদ্রোহের পথও আগেভাগে বন্ধ করার চেষ্টা থাকে। সবমিলিয়ে বার্তা পরিষ্কার। ভোটের লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে। ব্যক্তির চেয়ে বড় দল। নতুন-পুরনো সবাইকে একসঙ্গে নিয়েই লড়াইয়ে নামতে চাইছে তৃণমূল। আর সেই পথেই হাঁটার নির্দেশ গোপালপুরের মঞ্চ থেকে স্পষ্ট করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সম্পর্কিত সংবাদ