সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর : রাজ্য সরকারের কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা যাতে প্রকৃত ও যোগ্য কৃষকদের কাছেই পৌঁছায়, সেই লক্ষ্যেই শুরু হয়েছে উপভোক্তাদের ফিল্ড ভেরিফিকেশন যাচাই প্রক্রিয়া। ফলে প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা চালু রাখার জন্য কৃষকদের নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত বা বিডিও অফিসে জমা দিতে হচ্ছে। এই কারণে গত কয়েকদিন ধরে কৃষ্ণনগরের দোগাছি, ভাতজাংলা ইত্যাদি পঞ্চায়েত অফিসে উপভোক্তাদের ভিড় করতে দেখা যাচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্পে আর্থিক অনুদান যোগ্য কৃষকদের হাতে তুলে দিতেই এই বিশেষ যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উপভোক্তাদের নাম, ঠিকানা, জমির বিবরণ, আধার নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ডিবিটি সংযোগ-সহ একাধিক তথ্য নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে।পাশাপাশি ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে কি না, নাম বাদ পড়ে থাকলে সিএএ তে আবেদন করেছেন কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা গেছে। ফর্ম জমা নেবার সময় সব কাগজ পত্র ঠিক মতো জমা দিচ্ছে কিনা সেগুলো দেখে নেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রকল্পের অর্থ পেতে কোনো সমস্যা না হয়।
রাজ্য বাজেটে ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে, কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আওতায় যোগ্য কৃষকদের বছরে ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের পিএম-কিষাণ প্রকল্পে তিন দফায় ৬০০০ টাকার আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। ফলে প্রকল্পের সুবিধা পেতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঠিক রাখা এবং যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে বহু কৃষক নিজেদের কাজ ফেলে ফর্ম জমা করতে পঞ্চায়েত অফিস গুলোতে হাজির হচ্ছেন।
বিমল কুমার বিশ্বাস নামে এক কৃষক বলেন, আমি তো আগে টাকা পেতাম। এখন আবার শুনছি সব যাচাই হবে । কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকায় চাষের বীজ, সার ও অন্যান্য খরচে অনেকটাই সাহায্য করে। তাই কোনও সমস্যা না হয়, সেই কারণেই সব কাগজপত্র নিয়ে ফর্ম জমা দিতে এসেছি। ক্ষীরোদ বারুই নামে আরও এক কৃষক বলেন, এরকম যাচাই প্রক্রিয়া হওয়া দরকার আছে। এতে ভুয়ো লোকজনগুলো বাদ পড়বে এবং প্রকৃত কৃষকরাই সরকারি সুবিধা পাবেন। প্রকৃত ও যোগ্য কৃষকদের কাছে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতেই এই যাচাই প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পেতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফর্ম জমা করতে পঞ্চায়েত অফিসগুলোতে ভিড় করছেন কৃষকরা। নিজস্ব চিত্র