আলোর উৎসব: ফানুস ওড়াতে অনুমতি গ্রহণ জরুরি, চেয়ারম্যান নেই দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদে, দ্রুত নিয়োগের আশ্বাস
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আলোর উত্সবের সময়ে নেই রাজ্যের দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান। পরিবেশকর্মীদের বক্তব্য, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদে চেয়ারম্যান আলংকারিক পদ নয়। এই পদের গুরুত্ব যথেষ্ট। বন ও পরিবেশ মন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁয়ের বক্তব্য, খুব শীঘ্রই চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হবে। এদিকে, এবছর দীপাবলিতে লাইসেন্স বা অনুমতি ছাড়া ফানুস বা স্কাই ল্যান্টার্ন ওড়ানো যাবে না। এমনই সিদ্ধান্ত রাজ্যের। 
গত কয়েকবছর দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ সামলে এসেছেন কল্যাণ রুদ্র। এবছর সেই পদ খালি! মনোজকুমার ওরাওঁ বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করার প্রক্রিয়াও ইতিমধ্যে চালু হয়েছে। নবান্নের শীর্ষমহলও বিষয়টি জানে। খুব শীঘ্রই চেয়ারম্যান নিয়োগ হবে।’ 
এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিবেশ কর্মীদের সংগঠন ‘সবুজ মঞ্চ’। সংগঠনের সম্পাদক নব দত্ত বলেন, ‘এটা তো কোনো আলংকারিক পদ নয়। তাই এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চেয়ারম্যান না-থাকা সমস্যারই ব্যাপার। এই বিষয়ে আমরা আবেদনও করেছি।’ 
বৃহস্পতিবার সকালে মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দেয় ওই সংগঠনের প্রতিনিধি দল। দুর্গাপুজোয় বেশিরভাগ জায়গায় কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ডিজে ও লাউড স্পিকার নিয়ন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয় রাজ্যকে। এর পাশাপাশি কালীপুজো-দীপাবলিতে বায়ু ও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তাঁরা।  
এদিকে, ফানুস ওড়ানো নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছে রাজ্য। পশ্চিমবঙ্গ অগ্নিনির্বাপণ পরিষেবা আইন, ১৯৫০-এর ৯ ধারা অনুযায়ী, রাজ্যে আগুনের বেলুন জাতীয় আতশবাজি ওড়াতে অগ্নিনির্বাপণ দপ্তরের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। গতবছর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল রাজ্য। এবছর দীপাবলি, কালীপুজো ও ছটপুজোয় আতশবাজি জ্বালানোর নিয়ম সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ফানুস জ্বালাতে লাইসেন্স বা অনুমতি বাধ্যতামূলক বলেই বৃহস্পতিবার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের তরফে।
রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা বলেছেন, ‘ফানুস বা স্কাই ল্যান্টার্ন ওড়ানোর ক্ষেত্রে ফায়ার অ্যাক্টে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। লাইসেন্স ছাড়া কেউ তা করতে পারবেন না। আইন মেনেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আগাম লাইসেন্স বা অনুমতি নিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যিনি বিক্রি করবেন তাঁর যেমন লাইসেন্স থাকবে, তাঁর কাছ থেকে সেই বাজি একজন কিনতেই পারেন, কিন্তু অনুমতি ছাড়া ওড়ানো যাবে না।’ বিমানবন্দর সহ আশপাশের এলাকায় ফানুস ওড়ানো প্রসঙ্গে রাজ্যের এক পদস্থ কর্তা জানান, কোন জায়গায় ওড়ানো যাবে আর কোথায় ওড়ানো যাবে না, সেটা দেখে নেওয়ার জন্যই অনুমতি গ্রহণের বিষয়টি থাকছে।  সূত্রের খবর, বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে বিগত বছরগুলিতে যা নিয়ম মানা হয়েছে, তার কোনো বদল এবার হচ্ছে না। 

Advertisement