১১ সংখ্যার ফার্মার আইডি ছাড়া মিলবে না সার, এক ছাতার তলায় কৃষি পরিষেবা, পাইলট প্রকল্প জেলায়
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: আধার কার্ডের ধাঁচে এবার চাষিদের জন্যও বিশেষ পরিচিতি নম্বর। ১১ সংখ্যার সেই নম্বরই হয়ে উঠতে চলেছে কৃষকের যাবতীয় কৃষি পরিষেবা পাওয়ার চাবিকাঠি। সার কেনা থেকে শুরু করে সরকারি প্রকল্পের টাকা পাওয়া, মান্ডিতে ধান বিক্রি প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্যবহার হবে এই ‘ফার্মার আইডি’। কৃষি দপ্তরের এগ্রিস্ট্যাক প্রকল্পের অধীনে এই ব্যবস্থা চালুর পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে নদীয়ায়। চাষির পরিচয়, জমির রেকর্ড ও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সংক্রান্ত তথ্যকে একটি ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় এনে পরিষেবা প্রদান থেকে শুরু করে কৃষি ক্ষেত্রে অনিয়ম রোখাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

Advertisement

চাষিদের ফার্মার আইডি তৈরি হয়ে গেলে তা ব্যবহার করে ‘এফএফএস’ অ্যাপে নথিভুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে। ফসলের ধরণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী সার কেনার জন্য আবেদন করতে পারবেন চাষিরা। শুধু তাই নয়, আবেদন করার সময় কোনে দোকানে কত সার মজুত রয়েছে, সেই তথ্যও দেখা যাবে এই অ্যাপে। ফলে সার কিনতে গিয়ে দোকানে পৌঁছানোর পরে মজুত নেই বলে ফিরে আসার মতো সমস্যাও মিটবে বলে আশা কৃষি দপ্তরের। 
এত দিন কৃষকদের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে পৃথক পৃথক ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হত। এবার সেই ব্যবস্থায় বদল আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষক বন্ধু, পিএম-কিষান-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হবে ফার্মার আইডি। ফলে একজন চাষি কোন কোন প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, কোথায় তাঁর টাকা জমা পড়েছে, আর কোন প্রকল্পের টাকা এখনও মেলেনি—এক জায়গা থেকেই সেই তথ্য এক লহমায় জানার সুযোগ তৈরি হবে। চাষিদের তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার পাশাপাশি এতে প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়ানো যাবে।
ধান বিক্রির ক্ষেত্রেও এই আইডি নম্বরের ব্যবহার বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। মান্ডিতে ধান বিক্রির সময় কৃষকের পরিচয় যাচাইয়ের পাশাপাশি ওটিপি-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষকের আধার-সংযুক্ত মোবাইলে আসা ওটিপির মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করা যাবে। এতে অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে ধান বিক্রির অনিয়মের সুযোগ কমবে বলেই মনে করছে কৃষি দপ্তর। 
ভবিষ্যতে কৃষিঋণের আবেদন করার ক্ষেত্রেও এই আইডি কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষি দপ্তরের এক আধিকারিকের কথায়, ফার্মার আইডি তৈরির জন্য চাষিকে আধার নম্বর, আধার-সংযুক্ত মোবাইল ও জমির রেকর্ড সংক্রান্ত নথি নিয়ে আসতে হবে। আধার-ভিত্তিক ওটিপির মাধ্যমে পরিচয় যাচাইয়ের পরে জমির রেকর্ডের দাগ নম্বর ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট তথ্য খতিয়ে দেখা হবে। দপ্তরের নির্দিষ্ট ব্যবস্থায় চাষির তথ্য নথিভুক্ত ও অনুমোদন করা হলে তাঁর মোবাইলে আইডি তৈরির বার্তা পৌঁছাবে।