সংবাদদাতা, তেহট্ট: সারের সঙ্গে চাহিদাহীন কীটনাশক ও অন্যান্য সামগ্রী ‘ট্যাগ’ করে দেওয়ার অভিযোগ। তার উপর অনলাইনে নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে বাজারে সার কেনার দামের বিস্তর ফারাক। এই জোড়া সমস্যায় কার্যত নাজেহাল তেহট্ট মহকুমা-সহ নদিয়ার ছ’টি ব্লকের সার ব্যবসায়ীরা। সমস্যা মেটানোর দাবিতে সোমবার মিছিল করে তেহট্ট মহকুমা সহ-কৃষি অধিকর্তার দপ্তরে গিয়ে স্মারকলিপি দেন তাঁরা।
এদিন তেহট্টের হাউলিয়া পার্ক মোড় থেকে মিছিল শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। তেহট্ট-১, তেহট্ট-২, করিমপুর-১, করিমপুর-২, নাকাশিপাড়া ও কালীগঞ্জ—এই ছ’টি ব্লকের সার ব্যবসায়ীরা মিছিলে যোগ দেন। তাঁদের অভিযোগ, অনলাইন ব্যবস্থায় সার কেনাবেচা চালু হওয়ার পর থেকেই একাধিক নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সার কেনার সুযোগ যেমন থাকছে না, তেমনই নির্দিষ্ট কিছু সামগ্রী সারের সঙ্গে ‘ট্যাগ’ করে কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, সারের সঙ্গে এমন কিছু কীটনাশক বা অন্যান্য সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে, যেগুলির বাজারে চাহিদা কম। ফলে ওই সামগ্রী বিক্রি না হওয়ায় টাকা আটকে থাকছে। একদিকে সার বিক্রি করে লাভ কম, অন্যদিকে অবিক্রীত সামগ্রীর বোঝা—সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে।
আরও বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে সারের বিক্রয়মূল্য নিয়ে। ব্যবসায়ীদের দাবি, অনলাইনে কোনো সারের খুচরো বিক্রয়মূল্য ১৩৫০ টাকা দেখানো থাকলেও তাঁদের অনেক সময় তার চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। ফলে ১৩৫০ টাকায় চাষিকে সার দিতে গেলে লোকসান হচ্ছে। আবার বেশি দামে বিক্রি করলে অনলাইনে দেখানো দামের সঙ্গে তা না মেলায় চাষিদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বচসা ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে।
এক সার ব্যবসায়ীর কথায়, চাষির মোবাইলে অনলাইনে ১৩৫০ টাকা দাম দেখছেন। কিন্তু সেই সার আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে বেশি দামে বিক্রি করলে চাষি ভাবছেন আমরা বেশি টাকা নিচ্ছি। আর নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে আমাদের লোকসান। এই অবস্থায় ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
পরিবহণ খরচ নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। তাঁদের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী দোকান পর্যন্ত সার পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা ডিলারের। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের খরচে সার দোকানে আনতে হচ্ছে। ফলে পরিবহণবাবদ অতিরিক্ত খরচও বহন করতে হচ্ছে তাঁদের।
তেহট্ট-১ ব্লকের নদিয়া ডিস্ট্রিক্ট এগ্রি ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক উদয় সরকার বলেন, সারে ট্যাগ নীতির জন্য ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বেশ কিছু সার নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যে বিক্রি করা যাচ্ছে না। এতে চাষিদের কাছেও ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে খারাপ ধারণা তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এভাবে চললে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে। তাই সমস্যা সমাধানের দাবিতে সহ-কৃষি অধিকর্তার দ্বারস্থ হয়েছি।
সহ-কৃষি অধিকর্তার দপ্তর সূত্রে অবশ্য জানানো হয়েছে, সারের সঙ্গে অন্যান্য সামগ্রী ‘ট্যাগ’ করার প্রথা নতুন নয়। আগে থেকেই এই ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে সেই সময় অনলাইন ব্যবস্থা না থাকায় বর্তমানের মতো সমস্যা তৈরি হত না। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ও দাবিগুলি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হবে বলে দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে।