Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ফেরি চলাচল, দীর্ঘপথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে যাত্রীদের

বিপর্যস্ত ডায়মন্ডহারবারের নুরপুর জেটিঘাট। ফলে সেখান থেকে হাওড়ার গাদিয়ারা ও পূর্ব মেদিনীপুরের গেঁওখালি যাওয়ার ফেরি পরিষেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ।

অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ফেরি চলাচল, দীর্ঘপথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে যাত্রীদের
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: বিপর্যস্ত ডায়মন্ডহারবারের নুরপুর জেটিঘাট। ফলে সেখান থেকে হাওড়ার গাদিয়ারা ও পূর্ব মেদিনীপুরের গেঁওখালি যাওয়ার ফেরি পরিষেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ। যাত্রীদের অনেকটা ঘুরপথে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হচ্ছে। যেমন শ্যামপুরের অমরপুরের বাসিন্দা কৌশিক মান্না। তিনি এক আত্মীয়-বিয়োগের খবর পেয়ে বুধবার সকালে শিবগঞ্জ থেকে নদী পেরিয়ে নৈনান ঘাটে গিয়ে ডায়মন্ডহারবারে গিয়েছিলেন। ফেরার সময় রায়চক থেকে কুঁকড়াহাটি হয়ে গেঁওখালি এসে তারপর নদীপথে গাদিয়াড়ায় বাড়ি ফিরেছেন। তিনি বলেন, গাদিয়াড়া নুরপুর ফেরি পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তীব্র সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সময়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত টাকাও নষ্ট হচ্ছে।

Advertisement

এদিকে, দ্রুত বিকল্প জেটিঘাট থেকে পরিষেবা চালু করা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক নয়। নুরপুর জেটির সামনে যে রাস্তা ছিল, সেটির একাংশ ধসে নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক দোকানও। ধসে যাওয়া অংশ দিয়ে নদীর জল ঢুকে পড়েছে। তাতে ডুবেছে কয়েকটি দোকান। জেটিঘাটের অফিস ঘর আবার নদীর দিকে হেলে পড়েছে।
এদিন অনেক যাত্রীকে অনেকটা বেশি সময় হাতে নিয়ে নিজেদের গন্তব্যে যেতে হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গাদিয়াড়া থেকে নুরপুর ফেরি পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন প্রায় ১০ কিলোমিটার নদীবাঁধের রাস্তা অতিক্রম করে শিবগঞ্জ থেকে নদী পেরিয়ে ফলতার নৈনান হয়ে ডায়মন্ডহারবার যাচ্ছেন যাত্রীরা। আবার অনেকে পূর্ব মেদিনীপুরের গেঁওখালি যাচ্ছেন। সেখান থেকে কুঁকড়াহাটি গিয়ে ভেসেল ধরে রায়চক যাচ্ছেন।
নুরপুরের পরিস্থিতি সামাল দিতে সেচদপ্তর ধসে যাওয়া জায়গায় বালির বস্তা ফেলে কাজ শুরু করেছে। কংক্রিটের ঘাটও বসে গিয়েছে। ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে বিপদ যাতে না হয়, তাই আগেভাগে বৈদ্যুতিক তার খুলে নিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা। বিকল্প হিসেবে পোর্ট ট্রাস্টের জেটিঘাট দিয়ে ভেসেল চালানোর কথা ভাবা হয়েছে। আজ, বৃহস্পতিবার পরিবহণ দপ্তরের তরফে ওই জেটিঘাট এলাকা পরিদর্শন করার কথা আছে। তারপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ডায়মন্ডহারবারের বিধায়ক পান্নালাল হালদার বলেন, দ্রুত এই রাস্তা মেরামতির চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত জেটি সারাই করতে সময় লাগবে। বিকল্প জেটির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, এদিন রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। তিনি বলেন, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। নির্দিষ্ট পথ ছেড়ে বড় বড় জাহাজ নদীর ধার দিয়ে যাচ্ছে বলে ঢেউ আছড়ে পড়ছে বাঁধে। তাতে সমস্যা হচ্ছে। আর জেটি কেন হেলে পড়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে ওখানকার বাসিন্দাদের প্রশ্ন, কী কারণে এমন বিপর্যয় নেমে এল? কেউ বলছেন, কিছুদিন আগে একটি বিশালাকার জাহাজ নুরপুর জেটির একদম কাছে এসে দাঁড়িয়ে পড়েছিল। তাতেই নদীর বড় ঢেউ বাঁধের মাটি আলগা করে দেয়। ফলে রাস্তায় ফাটল, ধস নামে। আরেকটি সূত্রের মতে, সাধারণভাবে মাটির ক্ষয় থেকেই এমন হয়ে থাকতে পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ