সুকান্ত বসু কলকাতা
সুকান্ত বসু কলকাতা
নিন্দুকরা বলে, সরকারি কাজে নাকি ১৮ মাসে বছর! কিন্তু অভিযুক্ত জীবিত নাকি মৃত, সেই রিপোর্ট দিতেই পুলিস ২৮ বছর লাগিয়ে দিয়েছে—এমন ঘটনা বিরল বইকি! বিরলতম বললেও অত্যুক্তি হয় না! সম্প্রতি বনগাঁ আদালতে এমনই এক আশ্চর্য ঘটনা সামনে এসেছে। রিপোর্ট জমা পড়ায় ৩১ বছর পর অবশেষে শুরু হতে চলেছে মূল মামলার বিচার। মামলার চার্জ গঠন করতে গিয়েই পুলিসের এই টালবাহানা ও দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়টি বনগাঁর দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক প্রদীপকুমার অধিকারীর নজরে আসে। ভরা এজলাসে এনিয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এই ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলেও আখ্যা দেন তিনি। এজলাসে বিচারপ্রার্থীদের সামনেই উষ্মা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ৩১ বছর পর মামলার শুনানি শুরু করা সম্ভব হচ্ছে, এটাই স্বস্তির বিষয়। পুলিস আরও সতর্ক ও সচেতন না হলে সমাজে অন্য বার্তা যাবে।’ আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এতদিনে এই মামলার নথিপত্রের অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়েছে। অনেক লেখা ঝাপসা হয়ে গিয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৯৪ সালে উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর থানায় জমি নিয়ে বিবাদের জেরে একজনকে খুনের চেষ্টার মামলা দায়ের হয়। অভিযোগ, গোপালনগর থানার শ্রীরামপুর ফুলিয়া এলাকার বাসিন্দা ইদ্রিস মণ্ডল যখন গোপালনগর বাজার দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন আচমকা তাঁর পথ আটকায় চার ব্যক্তি। ইদ্রিসকে এলোপাথাড়ি মারধর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হন। খুনের চেষ্টার অভিযোগ জমা পড়েছিল থানায়। গোপালনগর থানা চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মারধর ও খুনের চেষ্টার মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষ করে পুলিস একজনকে ‘ফেরার’ দেখিয়ে বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে বনগাঁ মহকুমা আদালতে। ‘ফেরার’ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জারি হয় জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, পুলিস রেজা মণ্ডল নামে ওই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার তো দূরের কথা, তাকে ধরতে না পারার কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যাই আদালতে পেশ করেনি। তখন আদালত বলে, ‘ফেরার’ ওই অভিযুক্ত জীবিত না মৃত, তা নিয়ে রিপোর্ট পেশ করুক পুলিস। সেই নির্দেশের প্রায় ২৮ বছর পর, ২০২২ সালে পুলিস রিপোর্ট দিয়ে জানায়, ওই অভিযুক্ত মারা গিয়েছেন।
এই ঘটনা সামনে আসার পর বনগাঁ আদালতের প্রবীণ আইনজীবীদের একাংশ জানাচ্ছেন, উত্তর ২৪ পরগনার এই আদালতে এর আগে এমন ঘটনা দেখা যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে জেলার পুলিস ও আইনজীবী মহলে।