স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: আর জি কর ধর্ষণ— ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট রাত ১টায় হাসপাতালের সেমিনার রুমে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছিল। তারপর রাত দখল, লাগাতার আন্দোলন, সরকার বদল সবই হয়েছে গত দু’বছরে। শুধু বদলায়নি সরকারি মেডিকেল কলেজে চিকিৎসকদের নিরাপত্তার হাল। এবার এন আর এস! ফের রাতের অন্ধকারে বহিরাগতদের প্রবেশ ও অশালীন কার্যকলাপে প্রশ্নের মুখে পড়েছে মহিলা চিকিৎসকদের নিরাপত্তা। শনিবার রাত ৩টে নাগাদ সরকারি এন আর এসে ঢুকে হস্টেলের বাইরে মহিলা চিকিৎসকদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ উঠল। একবার নয়, লাগাতার। এর প্রতিবাদ করে শ্লীলতাহানির শিকার হলেন এক মহিলা চিকিৎসক। তিনি ওই হস্টেল পরিচালনার দায়িত্বে। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে আবাসিক-চিকিৎসকদের মধ্যে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, এন আর এস মেডিকেল কলেজে এমডি/এমএস পাঠরতাদের জন্য আলাদা ‘লেডি ডক্টরস হস্টেল’ রয়েছে। তার বাইরে মাঝেমধ্যেই বহিরাগতদের আড্ডা বসে। তরুণী চিকিৎসকরা ওই পথ দিয়ে যাতায়াত করলে তাঁদের কু-নজরে দেখা হয় বলে অভিযোগ। সম্প্রতি বহিরাগত কিছু যুবক হস্টেলের বাইরে তরুণী চিকিৎসকদের উত্ত্যক্ত করতে শুরু করে। যা সীমা অতিক্রম করে ২৩ এবং ২৭ জুন। অভিযোগ, দু’দিনই ‘লেডি ডক্টরস হস্টেল’-এর বাইরে গভীর রাতে চার-পাঁচজন যুবক মহিলা চিকিৎসকদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি করে। গভীর রাতে মহিলা চিকিৎকদের হস্টেলের জানালার বাইরে হাই ভলিউমে অশালীন ভিডিয়ো চালায় অভিযুক্তরা। এই ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন মহিলা চিকিৎসকরা। আবাসিক চিকিৎসকরা গোটা বিষয়টি হস্টেল কর্তৃপক্ষকে জানান। তার প্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হস্টেল দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা এক মহিলা চিকিৎসক রাতে টহল দিতে গেলে তাঁর নজরে আসে বহিরাগতরা। তিনি সেখান থেকে তাদের চলে যেতে নির্দেশ দেন। অভিযোগ, তার জেরে সেই মহিলা চিকিৎসককে অশালীন অঙ্গভঙ্গি ও তাঁর শ্লীলতাহানি করে অভিযুক্তরা। তারা মদ্যপ অবস্থায় ছিল বলে দাবি অভিযোগকারিণীর। রাতেই এন্টালি থানায় ফোন করে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন এন আর এসের ওই মহিলা চিকিৎসক। স্থানীয় সূত্রের খবর, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সেখান থেকে পালিয়ে যায় চার অভিযুক্ত। হাসপাতাল চত্বরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাদের চিহ্নিত করেন তদন্তকারীরা। রবিবার এন্টালি থানা এলাকার কনভেন্ট রোড থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতদের নাম পাপ্পু দাস (২৫), পাপ্পু রাম (২৬), ভোলা দাস (৪৩) ও কিষাণ কুমার (৪১)। উল্লেখ্য, এই ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন মহিলা চিকিৎসকরা। তাঁদের বক্তব্য, রাত ২-৩টে নাগাদ হাসপাতালের ভিতরে অবাধে কীভাবে প্রবেশ করতে পারছে বহিরাগতরা? আর জি করের ঘটনার পরও কি তাহলে হুঁশ ফেরেনি প্রশাসনের? নিজস্ব চিত্র