নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: মহালয়া থেকে পুজো কার্নিভাল। সরকারি ডাকেই ঠাসা বুকিং পেয়েছে আরামবাগের মহিলা ঢাকির দল। আর তার জেরে স্বস্তি ফিরছে ঢাকি পরিবারগুলিতে। পুজোর আগেই ঢাকে বোল তুলতে শুরু করে দিয়েছেন শিল্পীরা। সংসার, নিত্যদিনের কাজ সেরে মহিলা ঢাকি শিল্পীরাও উপার্জনের রাস্তা খুঁজে পাচ্ছেন। গত বছরই রাজ্যের লোক প্রসার প্রকল্পের আওতায় আরামবাগের মহিলা ঢাকিরা লোকশিল্পীর পরিচয়পত্র পান। সেইসঙ্গে প্রতি মাসে পাচ্ছেন এক হাজার টাকার ভাতাও। হুগলি জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিক প্রবাল বসাক বলেন, সারা বছরই মহিলা ঢাকিদের অনুষ্ঠানের বরাত দেওয়া হয়। এবারও পুজোর সময় উদ্বোধন, শারদীয়ার অনুষ্ঠান ও কার্নিভালে ঢাক বাজানোর বরাত পাবেন মহিলা শিল্পীরা। এখন তারই প্রস্তুতি চলছে।
মহিলা ঢাকি দলের প্রশিক্ষক দিলীপকুমার দাস বলেন, বছর ছয়েক আগে আরামবাগের রামনগর থেকে প্রথম মহিলা ঢাকি দল আত্মপ্রকাশ করে। পরে বলরামপুর থেকেও একটি দল সামনে আসে। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবার থেকে শিল্পীদের নিয়ে দল গঠন করা হয়েছে। সেই জন্য আগে রোজগার নিয়ে খুবই অনিশ্চয়তা ছিল। গত বছর থেকে মহিলা ঢাকিদের অনেকেই শিল্পী ভাতা পাচ্ছেন। তার সঙ্গে পুজোর সময়ও সরকারিভাবে ঢাক বাজানোর ডাক এসেছে। এতে পরিবারগুলি কিছুটা আর্থিকভাবে লাভবান হবে।
জানা গিয়েছে, পুজোর দিনগুলি বাদে মহালয়া থেকে কার্নিভাল পর্যন্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ঢাক বাজানোর বরাত পেয়েছেন শিল্পীরা। চুঁচুড়া সহ জেলা সদরের বিভিন্ন জায়গার অনুষ্ঠানে এই মহিলা ঢাকির অংশ নেবেন। তবে পুজোর দিনগুলিতেও বিভিন্ন মণ্ডপে ঢাক বাজানোর বরাত পেয়েছেন শিল্পীরা। আরামবাগের বলরামপুরের এক মহিলা ঢাকি শিল্পী অর্চনা দাস বছর কয়েক ধরে দলের সঙ্গে বাজাচ্ছেন। সংসার সামলে তিনি মহড়ার পাশাপাশি নানা অনুষ্ঠানেও ঢাক বাজাতে যান। অর্চনাদেবী বলেন, গত বছর থেকে শিল্পী ভাতা পাচ্ছি বলে সুবিধা হয়েছে। এবার পুজোতেও সরকারিভাবে কিছু ডাক পেয়েছি। প্রায় চার বছর ধরে ঢাক বাজাচ্ছেন বলরামপুরের আরেক শিল্পী সোনালি দাস। তিনিও সংসার সামলে নানা অনুষ্ঠানে ঢাক বাজাতে যান। সোনালিদেবী বলেন, বলরামপুরে প্রথম শুরু করেছিলাম ঢাকের প্রশিক্ষণ। ধীরে ধীরে পাড়ার অন্যান্য মহিলারাও যোগ দেন। সরকারি ভাতা ও বাজানোর ডাক পেয়ে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। ঢাক বাজিয়ে সংসারে স্বচ্ছলতা
ফিরেছে। -নিজস্ব চিত্র