Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দর্জিপাড়ায় ফেলুদা, সিনেমার ৫১ বছরে ফ্ল্যাশব্যাকে সোনার কেল্লা থেকে মন্দার-মগনলাল-কাশীর ঘাট

পর্দায় প্রদোষচন্দ্র মিত্রর আবির্ভাবের ৫১ বছর পূর্তি এই শীতে। অর্ধশতক পেরিয়েও চিরসবুজ ফেলুদা-তোপসে-জটায়ু। সেই শাণিত মগজাস্ত্র, সেই অ্যাপিলে দশকের পর দশক পেরিয়েও বুঁদ বাঙালি।

দর্জিপাড়ায় ফেলুদা, সিনেমার ৫১ বছরে ফ্ল্যাশব্যাকে সোনার কেল্লা থেকে মন্দার-মগনলাল-কাশীর ঘাট
  • ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্ক দে, কলকাতা; পর্দায় প্রদোষচন্দ্র মিত্রর আবির্ভাবের ৫১ বছর পূর্তি এই শীতে। অর্ধশতক পেরিয়েও চিরসবুজ ফেলুদা-তোপসে-জটায়ু। সেই শাণিত মগজাস্ত্র, সেই অ্যাপিলে দশকের পর দশক পেরিয়েও বুঁদ বাঙালি। এখনও মুগ্ধতার জাল বিস্তার করে ২১, রজনী সেন রোডের বাসিন্দা প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটরের রহস্য উদঘাটন। সেই নস্টালজিয়ায় হিয়া ভাসিয়ে দিতে এ বছর দর্জিপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির পুজোর থিম, ‘রহস্য-রোমাঞ্চ’। এ বছর তাঁদের দুর্গোৎসব ৯৪ তম বর্ষে পা দিয়েছে। 

Advertisement

সাল ১৯৭৪। সে বছরই ২৭ ডিসেম্বর বড় পর্দায় মুক্তি পেয়েছিল আইকনিক ছবি ‘সোনার কেল্লা’। তার ৫১ বছরের মাথায় বাঙালির এক এবং অদ্বিতীয় প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটরের সঙ্গে নিজেদের পুজোকে মিশিয়ে দিয়েছে দর্জিপাড়া। এ উদ্যোগ ফেলুদার স্রষ্টা সত্যজিৎ রায়ের প্রতিও তাঁদের কুর্নিশ জানানো। তাঁদের মণ্ডপসজ্জায় উঠে এসেছে ‘সোনার কেল্লা’ এবং ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’ ছবির নানা বিষয়। থাকছেন মগনলাল মেঘরাজ, মছলিবাবা। আবার আছেন মন্দার বোস এবং নকল ডক্টর হাজরাও। সবমিলিয়ে দর্জিপাড়া অঞ্চলটি যেন ‘ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি’র স্টুডিও। অলিগলির বাড়িগুলি রঙিন হয়ে উঠেছে ফেলুদার একাধিক কাহিনির প্লটে। মণ্ডপ রূপায়ন করেছেন শিল্পী সোমনাথ দাস। মণ্ডপে কাজ করছিলেন তাঁর সহ শিল্পী বিশ্বজিৎ পাল। তিনি বলেন, ‘ফেলুদার বিভিন্ন গল্পে যে প্রেক্ষাপট আমরা দেখি, তা দেখেই আমরা ধারণা করতে পারি উনি কোথায় যাচ্ছেন, বা কোন পরিবেশে গল্প তৈরি হচ্ছে। সেই বিভিন্ন গল্পকে একত্র করে আমরা মণ্ডপের ডিজাইন তৈরি করছি। প্রবেশ পথ দিয়ে দর্শনার্থীরা মণ্ডপে ঢুকেই বুঝতে পারবেন, গল্পের বিভিন্ন পার্টে তাঁরা ঢুকেছেন। এক-একটি জায়গার রহস্য এক এক ধাপে উন্মোচন করা হচ্ছে। তাই থিমের নাম রহস্য-রোমাঞ্চ।’ তিনি জানান, মণ্ডপের মূল প্রবেশপথের মুখেই সত্যজিৎ রায়কে ট্রিবিউট দেওয়ার জন্য, একটি পোর্ট্রেট তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন চরিত্র যাঁরা ফুটিয়ে তুলেছেন, তাঁদের সম্মান জানাতে তৈরি হচ্ছে নানা রকমের ইলাস্ট্রেশন। শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় মণ্ডপেই ফুটে উঠছে জয়সলমীরের সোনার কেল্লা, বেনারসে গঙ্গার ঘাটের পাশাপাশি ঘোষাল পরিবারের ঠাকুরদালান। পুজো উদ্যোক্তা এবং ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মোহনকুমার গুপ্ত বলেন, ‘আমাদের এই ভাবনা শুধু বুদ্ধিমত্তা প্রকাশ বা মেধা উদযাপন নয়। শিল্পীদের ভাবনায় বাংলা বা ভারতবর্ষের সংস্কৃতি, শিল্প এবং বাঙালির রসবোধ উদযাপনেরও প্রয়াস।’ উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, ‘আমাদের ভাবনা এবং কাজ স্বীকৃতি পেলে আনন্দ পাব। এই আশা নিয়েই আমাদের রহস্য-রোমাঞ্চ থিমে পুজো উদযাপন।’-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ