নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার পুজোয় এলইডি বা ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের জন্য ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে কলকাতা পুরসভা। তবে অন্যান্য বিজ্ঞাপনের ফি এবারও মকুব করা হবে বলে খবর। সেই সঙ্গে নাগরিক ও দর্শনার্থীদের সুরক্ষার স্বার্থে পুজো কমিটিগুলিকে কিছু নিয়মে বাঁধতে চাইছে পুর কর্তৃপক্ষ। তাই ঠিক হয়েছে, এলইডি বা ডিজিটাল বিজ্ঞাপনি কাঠামো তৈরি করলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে স্ট্রাকচারাল স্টেবিলিটি এবং উইন্ড প্রেসার সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে পুরসভায়। পুরসভা সূত্রে খবর, এই যাবতীয় নিয়ম আনার জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে পুজোর সময় বিজ্ঞাপন ফি মকুব করত পুরসভা। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণাতেও থাকত বিজ্ঞাপন ফি ছাড় দেওয়ার বিষয়টি। চলতি বছর মিলনমেলা প্রাঙ্গণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিজ্ঞাপন ফি সংক্রান্ত কোনো ঘোষণা করেননি। তবে প্রশাসন সূত্রে খবর, চলতি বছরও পুজোর বিজ্ঞাপন ফি ছাড় দেওয়া হবে। তবে পুরকর্তারা বলছেন, অন্যান্য বছর নবান্নের তরফেই সেই বার্তা দেওয়া হত। কিন্তু চলতি বছর সরকারি তরফে এখনও কিছুই বলা হয়নি। তবে শোনা যাচ্ছে, এক্ষেত্রে আগের নিয়মই বজায় থাকবে। পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, ‘বিজ্ঞাপন ফি মকুবের বিষয়টি ঘোষিত না হলেও এটা এবারও থাকছে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। সেই মতো গোটা বিষয়টি নথিভুক্ত রাখার জন্য ফাইল রেডি করা হচ্ছে। পুজোর ব্যানার কিংবা বিভিন্ন পুজো কমিটি যেসব বিজ্ঞাপন দেয়, তাতে ফি মকুব করা হলেও এলইডি অ্যাডে ফি নেওয়া হবে।’ আধিকারিকদের আরও বক্তব্য, কোনো পুজো কমিটি রাস্তার ধারে লোহার স্ট্রাকচার তৈরি করে এলইডি লাগিয়ে বিজ্ঞাপন চালাতেই পারে। কিন্তু সেটা যদি ভেঙে পড়ে, তখন পুরসভার ঘাড়ে দায় চাপবে। তাই সেই কাঠামো কতটা শক্তপোক্ত, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে স্ট্রাকচারাল স্টেবিলিটি সার্টিফিকেট দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, ঝড়ে কিংবা দমকা হওয়ার দাপটে সেটা যেন ভেঙে না পড়ে, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য উইন্ড প্রেসার সার্টিফিকেটও দিতে বলা হয়েছে। তারপরেও যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তখন এজেন্সিকে ধরপাকড় করা হবে।
উল্লেখ্য, বছর দু’য়েক আগে প্রথম শহরে পুজোর ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে নজর কেড়েছিল ত্রিধারা, দেশপ্রিয় পার্ক। পরবর্তীকালে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের চেতলার পুজোতেও এলইডি বিজ্ঞাপন নজরে পড়ে। এর বাইরেও শহরের বেশ কয়েকটি নামি পুজো এলইডি বিজ্ঞাপন ব্যবহার করেছিল। চলতি বছর এই ধরনের বিজ্ঞাপনের সংখ্যা বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।