


নয়াদিল্লি: ভারতীয় ফুটবলে টালমাটাল অবস্থা। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ক্রমশ নামছে টিম ইন্ডিয়া। আইএসএলের ভবিষ্যত্ নিয়েও ধোঁয়াশা। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন খালিদ জামিল। তাঁর সামনে যে কঠিন লড়াই, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই কারণেই খালিদের জন্য কষ্ট হচ্ছে বাইচুং ভুটিয়ার। কিংবদন্তি ফুটবলারের কথায়, ‘ফেডারেশন কর্তাদের সঙ্গে কাজ করা খুবই কঠিন। ইগর স্টিমাচ ও মানোলো মার্কুয়েজের মতো কোচেরা টিকতে পারল না। ফেডারেশন ‘ইয়েসম্যান’ চাইছে। তারজন্যই ভারতীয় কোচ খালিদ জামিলকে দায়িত্ব দিয়েছে। সত্যিই, খালিদ খুব কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিল। ওর জন্য খারাপ লাগছে।’
এআইএফএফ’এর প্রেসিডেন্ট কল্যাণ চৌবের অধীনে ভারতীয় ফুটবল যে পিছিয়েছে, তা অস্বীকারের উপায় নেই। পরিস্থিতি দেখে বিশেষজ্ঞরা বলাবলি করছেন, ভারতীয় ফুটবলের ভালো-খারাপ নিয়ে কোনও মাথাব্যথাই নেই সভাপতির। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য চেয়ার আগলে রাখা। আর প্রচারের জন্য মাঝেমধ্যে সাংবাদিক সম্মেলনে করে কেবল বড় বড় বুলি আওড়ান। বাইচুংয়ের মন্তব্য, ‘আমি তো জানি, ভারতের হেড কোচদের অন্য কেউ বেতন দিত। তাহলে এত টাকা গেল কোথায়? আসলে কল্যাণ জমানায় একের পর এক স্ক্যাম চলছে। তাতেই ফুটবলের ক্ষতি হচ্ছে।’ আইএসএলের অনিশ্চয়তায় সম্প্রতি কল্যাণ চৌবেও মেনে নিয়েছেন, ভারতীয় ফুটবল কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে বাইচুংয়ের জবাব, ‘ও একেবারে সঠিক কথা বলছে। তবে যেটা বলছে না তা হল, এই অবস্থার জন্য কল্যাণই দায়ী। সভাপতি পদে তো ওই বসে রয়েছে। ওর দায়িত্ব সমস্যা মেটানো। যদি না পারে পদ ছেড়ে দিক। অন্য কেউ যোগ্য ব্যক্তি এসে সমস্যার সমাধান করবে।’
আইএসএলের আগে সুপার কাপ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে এআইএফএফ। এই প্রসঙ্গে বাইচুং বলেন,‘মাস্টার রাইটস নিয়ে সমস্যা আগেই মেটানো উচিত ছিল ফেডারেশনের। তাহলে আইএসএল নিয়ে এমন অনিশ্চয়তাই তৈরি হতো না। আর অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা বিশ্বকাপের জন্য সুপ্রিম কোর্ট অ্যাড হক কমিটি নিয়োগ করেছে। ফেডারেশনেরও উচিত ছিল সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে নতুন কমিটির জন্য আর্জি জানানো।’
এদিকে, ন্যাশনাল স্পোর্টস বিল রাজ্যসভায় পাশ হয়েছে। এই প্রসঙ্গে বাইচুংয়ের মন্তব্য, ‘স্পোর্টস বিলকে স্বাগত জানাচ্ছি। এর মাধ্যমে ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নতি হবে। আশা করব যে কমিটিই দায়িত্বে থাকবে স্বচ্ছভাবে, সততার সঙ্গে কাজ করবে।’