


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফেডারেশনের নাকি ১৮ মাসে বছর! গর্জন বেশি, বর্ষণ কম। আইএসএল জট কাটাতে কোনও উদ্যোগই চোখে পড়েনি ফেডারেশন সভাপতির। সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা সম্পর্কে এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বর্ষশেষে কিছুটা হলেও গা-ঝাড়া দিল এআইএফএফ নিযুক্ত তিন সদস্যের কমিটি। ক্লাব জোটের দাবি মেনে দীর্ঘমেয়াদি লিগের প্রস্তাব দেওয়া হয়। শুক্রবার জোট প্রতিনিধিদের সঙ্গে অন-লাইন বৈঠকে বসেছিলেন কমিটির সদস্যরা। ঘণ্টাখানেক মিটিংয়ের পর কিছুটা হলেও বরফ গলার ইঙ্গিত মিলছে। আগামী ২৮ ডিসেম্বর ফের ক্লাব জোটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে ফেডারেশন। চলতি মরশুমে কোন ফরম্যাটে শীর্ষ লিগ আয়োজিত হবে তার সম্যক ধারণা মিলতে পারে তখনই। পরদিন আইএসএলের সবক’টি ক্লাব ও ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিনিধিকে নিয়ে রাজধানীর ফুটবল হাউসে মেগা মিটিং। অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, সব ঠিকঠাক চললে নতুন বছরের ফেব্রুয়ারিতে মাঠে বল গড়াতে পারে।
ভারতীয় ফুটবলে অনিশ্চিয়তা কাটাতে দীর্ঘমেয়াদি রোড ম্যাপের দাবি জানিয়েছিল ক্লাব জোট। আগামী ২০ বছর কোন পথে চলবে ফুটবল তারই রূপরেখা মেলে ধরার চেষ্টা করেছে তিন সদস্যের কমিটি। কয়েকদিন আগেই ফেডারেশনের নতুন সংবিধান চালুর জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই অনুযায়ী শীর্ষ লিগের রাশ থাকবে সংস্থার হাতে। কী রয়েছে ফেডারেশনের প্রস্তাবে? জানা যাচ্ছে, শীর্ষ লিগ চালানোর বাজেট প্রায় ৭০ কোটি টাকা। ‘সেন্ট্রাল অপারেশনাল বাজেট’ থেকেই যাবতীয় খরচ মেটানো হবে, যা আসলে শীর্ষ লিগের কোষাগার। প্রতি বছর ফেডারেশন, কমার্শিয়াল পার্টনার ও অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ক্লাব তাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা দেবে। পার্টিসিপেশন ফি’র পরিমাণ বার্ষিক ১ কোটি টাকা। বাজেট বাড়লে টাকার অংকও বাড়তে পারে। লিগ থেকে রোজগারের অংশ কীভাবে ভাগ হবে তার চুলচেরা বিশ্লেষণও রয়েছে। লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ পাবে ক্লাবজোট। কমার্শিয়াল পার্টনার ও ফেডারেশনের হাতে থাকবে যথাক্রমে ৩০ ও ১০ শতাংশ লভ্যাংশ। বাকি ১০ শতাংশ রেভিনিউ শেয়ার হিসাবে বিবেচিত হবে। অবনমনের বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে। এমনকী কোনও ক্লাবের রেলিগেশন ঘটলেও সেন্ট্রাল পুলের টাকা থেকে বঞ্চিত হবে না। নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ থাকবে তাদের জন্য। দু’বছরের জন্য রক্ষাকবচ থাকছে। অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, বল এবার ক্লাব জোটের কোর্টে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাদেরই।
এদিকে, জানুয়ারির ট্রান্সফার উইন্ডোতে গোয়া এফসি ছাড়তে চলেছেন স্প্যানিশ ফুটবলার বোরহা হেরেরা, যা তাদের কাছে রীতিমতো বড় ধাক্কা। পাশাপাশি ইস্ট বেঙ্গলের আনোয়ার আলি ইস্যুতে স্টেটাস কমিটির কোর্টে বল পাঠাল ফেডারশেনের আপিল কমিটি।