


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা জলে আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি জেলায় ডুবে গিয়েছিল একরের পর একর কৃষিজমি। সেই জল ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। তারপরেই বেরিয়ে আসছে ক্ষয়ক্ষতির আসল চিত্র। ভুটান পাহাড়ের অধিকাংশ জায়গাতেই চলে ডলোমাইট খননের কাজ। সেই ডলোমাইট ডাস্ট সরবরাহ হয় ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে। মূলত আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়া রেল ইয়ার্ড থেকেই সরবরাহ হয় এই ডলোমাইট। কিন্তু ভুটান পাহাড়ে ভারী মাত্রায় ডলোমাইট খননের জের এসে পড়ছে উত্তরবঙ্গের এই দুই জেলার কৃষিকাজের উপর। এমনিতেই ভুটান পাহাড় থেকে ৭২টি নদী ও ঝোরা দিয়ে নেমে আসা জল কার্যত প্রতিবছর ভাসিয়ে দেয় উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। এবছরও তার ধ্বংসলীলার সাক্ষী থেকেছে আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি। কিন্তু, পাহাড় থেকে নেমে আসা জল ডলোমাইট মিশ্রিত হওয়ায় প্লাবিত কৃষিজমির উর্বরাশক্তি হ্রাস পায়। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই বিষয়টি জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর এই কারণেই তড়িঘড়ি পঞ্চায়েতমন্ত্রী তথা কৃষি বিশেষজ্ঞ প্রদীপ মজুমদারকে উত্তরবঙ্গে পরিদর্শনে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়ার পরে এই ব্যাপারে নবান্নের তরফে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
রবিবারের ভারী বর্ষণে উত্তরবঙ্গের ১৮,৪৫৩ একর জমি তলিয়ে গিয়েছিল। অধিকাংশই জলপাইগুড়ি জেলায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই জেলায় বন্যার মূল কারণই হল ভুটানের জল। তাতে পলি জমে একেবারে কংক্রিট হয়ে যায়! তা সরানো মারাত্মক চ্যালেঞ্জ। সরানো হলেও জমির উর্বরতা অনেকগুণ কমে যায়। ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় চাষিদের। রাজ্য কৃষিদপ্তরের উদ্যোগে বহু জায়গায় পলি সরানোর কাজ শুরুও হয়েছে। পাশাপাশি, এই সমস্যার পাকাপাকি সমাধানেরও পথ খোঁজা হবে।
এই বিষয়ে আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালের বক্তব্য, ভুটান পাহাড় থেকে ডলোমাইট ডাস্ট আসার দরুন দূষণের কবলে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকেই। কোনও সতর্কমূলক ব্যবস্থা না নিয়েই রেল ইয়ার্ড থেকে ডলোমাইট সরবরাহের কাজ চলে। আর বন্যা হলে জলে মিশ্রিত ডলোমাইট চাষের জমি একেবারে শেষ করে দেয়।
ডলোমাইট মূলত ব্যবহৃত হয় সিমেন্ট এবং কাচ ফ্যাক্টরিতে। ফলে বীরপাড়া দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছায় ভুটান থেকে আসা ডলোমাইট। তবে এর গুঁড়ো ব্যাপক দূষণ ছড়ায়। তাতে কিডনির অসুখ এবং হৃদরোগ হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।