নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশে পোস্ট অফিসের সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার। এই বিপুল সংখ্যক ডাকঘরের সংখ্যা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। একটি শাখার সঙ্গে অপর শাখার সংযুক্তিকরণের মাধ্যমেই এই কাজ করতে চায় যোগাযোগ মন্ত্রক। তাদের নির্দেশ, সংযুক্তিকরণের পরিকল্পনা এমনভাবে করতে হবে, যাতে সাধারণ গ্রাহকের পরিষেবায় ছেদ না পড়ে। তবে কেন্দ্রের ওই সিদ্ধান্তে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন ডাক বিভাগের কর্মচারীরা। তাঁরা যেমন দূরে বদলির ভয় পাচ্ছেন, তেমনই গ্রাহক সমস্যা যে চরমে উঠবে, সেই আশঙ্কাও করছেন। কারণ, কোনও একটি নির্দিষ্ট জায়গা থেকে ডাকঘর অন্যত্র সরে গেলে দূরত্ব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে গ্রাহকের একাংশের কাছে। অন্যদিকে গ্রাহকের সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেলে পরিষেবা ব্যাহত হওয়াই স্বাভাবিক।
সাম্প্রতিককালে এরাজ্যের একাধিক পোস্ট অফিসের হয় সংযুক্তিকরণ হয়েছে, অথবা তা অন্যত্র সরে গিয়েছে। তারপরও আগামী দিনে বড় সংখ্যক পোস্ট অফিস এই তালিকায় পড়তে চলেছে। তার কারণ, দেশজুড়ে এলাকাভিত্তিক সংযুক্তিকরণ বা স্থানান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রকে। এক্ষেত্রে কোন কোন পোস্ট অফিসকে এর আওতায় আনা হবে, তার রূপরেখা স্থির করতে বলা হয়েছে দেশের প্রতিটি সার্কেলকে।
পোস্টাল সার্ভিস বোর্ডের সদস্য (পরিকাঠামো) বীণা আর শ্রীনিবাস এক নির্দেশিকায় জানিয়েছেন, চলতি জুনেই এই বিষয়ে রূপরেখা চূড়ান্ত করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তাদের। প্রাথমিকভাবে তুলনামূলক ছোট শহরগুলিতে এই উদ্যোগ নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে সার্কেলগুলিকে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পরিষেবার গুণগত মানবৃদ্ধি এবং দপ্তরের আওতাভুক্ত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত।
দপ্তরের কর্মী ও অফিসাররা বলছেন, সংযুক্তিকরণের মাধ্যমে ডাকঘরের সংখ্যা কমালে গ্রাহকের অসুবিধাই হবে। কারণ, যে পরিকাঠামোর উপর ভর করে ডাক পরিষেবা চলে তাতে বেশিরভাগ গ্রাহকই অসন্তুষ্ট। এর উপর যদি কোনও পোস্ট অফিসে গ্রাহকের সংখ্যা আচমকা বেড়ে যায় এবং তার ঠিকানা যদি গ্রাহকের নাগালের বাইরে চলে যায়, তাহলে তা হবে গোদের উপর বিষফোঁড়া।