Bartaman Logo
২৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা? ইজরায়েল-আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানে, খামেনেইয়ের মৃত্যুর দাবি চুপ তেহরান

ঘড়ির কাঁটা তখন সকাল দশটা ছুঁইছুঁই। রমজান মাস চলছে। তেহরানের রাস্তায়, দোকান-বাজারে ইতস্তত ভিড়। ঠিক এমনই সময়ে বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ইরানের রাজধানী সহ অন্য একাধিক শহর

বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা? ইজরায়েল-আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানে, খামেনেইয়ের মৃত্যুর দাবি চুপ তেহরান
  • ১ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

দুবাই: ঘড়ির কাঁটা তখন সকাল দশটা ছুঁইছুঁই। রমজান মাস চলছে। তেহরানের রাস্তায়, দোকান-বাজারে ইতস্তত ভিড়। ঠিক এমনই সময়ে বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ইরানের রাজধানী সহ অন্য একাধিক শহর। কিছুক্ষণের মধ্যেই জানা গেল, গত দেড়-দু’সপ্তাহ ধরে চলা যাবতীয় জল্পনা-আশঙ্কা সত্যি করে পশ্চিম এশিয়ার এই দেশে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। সঙ্গী ইজরায়েল। মার্কিন অভিযানের পোশাকি নাম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। আর ইজরায়েলের... ‘অপারেশন লায়ন রোর’। দু’পক্ষেরই মূল টার্গেট ইরানের ‘সুপ্রিম লিডার’ আয়াতোল্লা আলি খামেনেই ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তেহরানের শহরতলি এলাকায় খামেনেইয়ের প্রধান বাসভবন চত্বর লক্ষ্য করে আছড়ে পড়ে একাধিক মার্কিন-ইজরায়েলি মিসাইল। একাধিক ভবন বিধ্বস্ত হয়। রাতে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানান, খুব সম্ভবত খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে। একই দাবি করেছে আমেরিকাও। ইজরায়েলের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানান, ইরানের সুপ্রিম লিডারের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর দেহও মিলেছে। সংবাদমাধ্যম  সূত্রে খবর,  নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পকে খামেনেইয়ের মৃতদেহের ছবি দেখানো হয়েছে। সেই দাবি অবশ্য উড়িয়ে দেয় ইরান। তাদের দাবি, ৮৬ বছর বয়সি নেতাকে আগেই সুরক্ষিত জায়গায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদা ও রেভ্যুলশনারি গার্ডের কমান্ডার মহম্মদ পাকপুর। ইরানের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখনও পর্যন্ত ২০১ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। জখম প্রায় ৭০০।

Advertisement

দিনের আলোয় অতর্কিত হামলার জবাব দিতে দেরি করেনি ইরান। কিছুক্ষণের মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত সাতটি মার্কিন সেনাঘাঁটিতে আছড়ে পড়ে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র। প্রত্যাঘাতের তালিকায় রয়েছে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি, কুয়েতের আল সালেম বিমান ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আল ধাফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন নৌসেনার ফিফথ ফ্লিটের নাভাল বেস। বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে আমিরশাহির রাজধানী আবু ধাবি, দুবাই, কাতারের রাজধানী দোহা, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধও। বাহরিন, সিরিয়া, জর্ডনেও হামলা চালিয়েছে ইরান। ইজরায়েলের রাজধানী জেরুজালেমেও হামলা চলে। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আকাশপথ। বুর্জ খলিফাও ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সংঘাত এখনও থামেনি। পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজরায়েলের লড়াইয়ে বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা মাথাচাড়া দিচ্ছে। রাশিয়া এই হামলাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়েছে। একই সুরে বিবৃতি দিয়ে নয়াদিল্লি জানায়, সংযম প্রয়োজন। প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্বকে মর্যাদা দেওয়া উচিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ