সংবাদদাতা, মানকর: মানকর এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রী তুলে ঝুঁকি নিয়ে টোটো চালানোর অভিযোগ উঠছে। মানকর রেলগেটে একটি টোটোতে ১০ জন পড়ুয়াকে চাপিয়ে নিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। চালকের পাশে একজন। মাঝে ৬ জন ও টোটোর শেষ অংশে বাইরের দিকে আরও তিনজন। এই ভাবে যাত্রী নিয়ে যেতে দেখে অনেকেই শিউরে উঠছেন। বড় দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
যাতায়তের জন্য মানকরে রেল স্টেশনের উপর গলসি ১ ও আউশগ্রাম ২ ব্লকের অমরাগড়, ভাতকুন্ডা, সুয়াতা সহ জঙ্গলমহলের একাধিক গ্রামের মানুষ নির্ভর করেন। তাছাড়া মানকরে রয়েছে একাধিক ব্যাঙ্ক, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, দুটি উচ্চ বিদ্যালয়, একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং বেশ কিছু সরকারি দপ্তর। ফলে নিত্যদিন বহু মানুষ মানকরে যাতায়াত করেন। যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম টোটো। মানকরের পাশে বুদবুদ দিয়ে চলে গিয়েছে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক। টোটো করেই বহু মানুষ এসে বুদবুদে দূরপাল্লার বাস ধরেন। কিন্তু অভিযোগ অনেক সময় বেশি লাভের আশায় পাঁচজনেরও বেশি যাত্রী চাপানো হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী চাপালেও প্রশাসনের নজরদারি নেই বলে অভিযোগ। টোটো যাত্রী বিজয় মণ্ডল বলেন, একটি টোটোতে পাঁচজন যাত্রী বসতে পারে। কিন্তু অনেক সময় সাত থেকে আটজনকে একটি টোটোতে তুলে নেওয়া হয় যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মাঠে চাষের কাজ চলার সময় এই ছবি প্রায়ই দেখা যায়। সম্প্রতি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আবার এভাবেই পড়ুয়াদের চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে এলাকার বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
স্থানীয়রা বলেন, মানকর রেলগেটের দুই প্রান্তের রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। প্রায়ই টোটো উল্টে যাবার মতো ঘটনা ঘটে। যাত্রীরা জখমও হয়। ছাত্রী সমেত ওই ধরনের টোটো উল্টে গেলে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যাবে। তারপরও চালকদের একাংশ সচেতন হচ্ছেন না। স্থানীয় বাসিন্দা বিভাস রাউত বলেন, বিষয়টি নিয়ে যাত্রী ও চালকদের সচেতন হওয়া দরকার। বিষয়টি নিয়ে এলাকার বাসিন্দা কংগ্রেস নেতা জয় গোপাল দে বলেন, মানুষের জীবন নিয়ে ছেলে খেলা চলছে। অবিলম্বে করা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।-নিজস্ব চিত্র