


অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: মানুষ প্রথম কবে নিজের মুখ দেখেছিল আয়নায়? রুপো আর কাচের সংমিশ্রণে ১৮৩৫-এ আধুনিক সময়ের আয়নার আবিষ্কার হলেও প্রায় আট হাজার বছর আগেই নাকি শুরু হয়েছিল আয়নার ব্যবহার! এই আয়নার সামনে দাঁড়িয়েই মানুষ প্রথম নিজেকে চিনতে শুরু করেছিল। তবে, আবিষ্কারের ইতিহাস যতই পুরোনো হোক। এই একটিমাত্র বস্তুর সামনে দাঁড়ালে আজও মানুষ নিজের স্বচ্ছ প্রতিবিম্ব দেখতে পায়। যেখানে কিছুই লুকোনো যায় না। তাই শুধু আয়নার সামনে নয়। সমাজের কাছেও আয়নার প্রতিবিম্বের মতো স্বচ্ছ হওয়ার বার্তা দিচ্ছে সল্টলেকের এফডি সর্বজনীন। এবার তাদের অভিনব থিম—‘দর্পণ-দৃষ্টি’। পুজো কমিটির সম্পাদক শিলাদিত্য রায়চৌধুরী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের পুজোর উদ্বোধন করবেন।
থিম ও অভিনবত্বে দর্শনার্থীদের মনে জায়গা করে নিয়েছে সল্টলেকে এফডি ব্লকের পুজো। শহরের এই অন্যতম বড়ো পুজোর দিকে তাকিয়ে থাকেন আবাসিকরাও। বিশাল মাঠের উপর এই পুজো। তাই মণ্ডপ, প্রতিমা দর্শনের সঙ্গে বাড়তি পাওয়া পুজোর মেলা। কেনাকাটার সুযোগ। এই পুজোর অন্যতম কর্মকর্তা ছিলেন বিধাননগর পুরসভার মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) বাণীব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার অবশ্য তিনি পুজোর দায়িত্বে নেই। কিন্তু, কেন? বাণীব্রতবাবু বলেন, ‘নতুনদেরও তো জায়গা দিতে হবে। তাই এবার আমি নেই’।
গতবছর ‘উৎস থেকে অসীমে’ গঙ্গার মহিমান্বিত যাত্রার থিম দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছিল। এবারও নজর কাড়তেই তৈরি হচ্ছে দর্পণ-দৃষ্টির নতুন ভাবনা। অ্যাক্রেলিক মিরর এবং রড আয়রন দিয়ে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। ভিতরে একাধিক চোখ ও আইবল দেখা যাবে। থিম শিল্পী দেবাশিস গুছাইত বলেন, আয়না বা দর্পণের সামনে দাঁড়িয়েই আমরা নিজেদের দেখতে পাই। নিজেদের চিনতে পারি। আয়নাতে ধরা পড়ে আমাদের প্রতিবিম্ব। অনেকটা মন ও আত্মার মুখোমুখি হওয়ার মতো। তাই আয়নার সামনে মানুষ যেমন স্বচ্ছ, তেমনই সমাজের কাছেও মানুষ যাতে স্বচ্ছ হতে পারে, সেই ভাবনাকেই থিম আকারে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে।
মণ্ডপের ভিতরের সিলিংয়ে ১০ ফুট আকারের বড়ো বড়ো চোখ এবং ভিতরের দেওয়ালে ২০ ফুটের একাধিক বড়ো বড়ো চোখ থাকবে। মায়ের প্রতিমার ঠিক উলটোদিকে, একটি বিমূর্ত আয়নাও থাকবে। থাকবে, মিররের অসংখ্য কাজ। স্বচ্ছতার বার্তা এবং সেই ভাবনাকে তুলে ধরার জন্যই এই থিমের নাম দিয়েছি ‘দর্পণ-দৃষ্টি’।