


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সন্ধ্যার পরেই দমদম বিমানবন্দর লাল-হলুদে ছয়লাপ। ফেস্টুন, পতাকা, মুহুর্মুহু স্লোগানে মহিলা দলকে স্বাগত জানালেন ইস্ট বেঙ্গল সমর্থকরা। শনিবার নেপালের মাটিতে ইতিহাস গড়েছে অ্যান্টনি অ্যান্ড্রুজের দল। মহিলা স্যাফ ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন ফাজিলা, সুলঞ্জনা, সিল্কি দেবীরা। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল, গোটা টুর্নামেন্টে কোনও গোল খায়নি মশালবাহিনী। সবমিলিয়ে বড়দিনের আগেই আলো ঝলমলে লেসলি ক্লডিয়াস সরণির ক্লাব। স্যাফ কাপ হাতে কোচ-ফুটবলাররা বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আসতেই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস শুরু। সাধারণত পুরুষ দল সাফল্য পেলে সমর্থকদের আবেগের বিস্ফোরণ দেখা যায়। সুইটি, আশালতারা সেই আধিপত্যেও ভাগ বসালেন। কনকনে ঠান্ডায় রাত ন’টায় অসংখ্য অনুরাগী উপস্থিত ছিলেন।
উগান্ডার ফাজিলাকে নিয়ে সমর্থকদের উৎসাহ তুঙ্গে। ন’টি গোল করে তিনিই টুর্নামেন্টে সর্বাধিক স্কোরার। বাংলাদেশের নাসরিন এসি’র বিপক্ষে একাই পাঁচটি গোল করেন তিনি। ফাজিলা বললেন, ‘অবিশ্বাস্য অনুভূতি। সমর্থকদের এই ভালোবাসা ভালো খেলতে উদ্বুদ্ধ করবে। ইস্ট বেঙ্গলকে আরও সাফল্য এনে দিতে চাই।’ বঙ্গকণ্যা সুলঞ্জনাও খুশিতে ভেসে গেলেন। তাঁর গোলেই প্রথম কন্যাশ্রী কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইস্ট বেঙ্গল। সেই টুর্নামেন্টেই প্রথম নজরে পড়েন তিনি। লাল-হলুদের মেয়ে উজাড় করে দিতে তৈরি। সোমবার দুপুরে ক্লাব তাঁবুতে পতাকা উত্তোলন। সবমিলিয়ে জমকালো উৎসবের প্রস্তুতি শুরু ইস্ট বেঙ্গলে।
কন্যাশ্রী কাপের পাশাপাশি মহিলাদের জাতীয় লিগে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ইস্ট বেঙ্গল। চলতি মরশুমেও অন্যতম ফেভারিট লাল-হলুদ ব্রিগেড। আগামী ২৪ ডিসেম্বর কল্যাণীতে নামছে অ্যান্টনি অ্যান্ড্রুজের দল। প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ সেতু এফসি। স্যাফ চ্যাম্পিয়শিপ খেলার পর চাইলেও বিশ্রামের সুযোগ নেই ইস্ট বেঙ্গলের। তার উপর ফাইনালে চোট পেয়েছেন সিল্কি দেবী ও ফাজিলা। সেতুর বিরুদ্ধে তাঁদের খেলা অনিশ্চিত। তবে কোচ অ্যান্ড্রুজ ধারাবহিকতা বজায় রাখতে আশাবাদী।