বাবারা বরাবর নীরব নায়ক। নির্ভরতা-নিরাপত্তার নিশ্চিন্ত আশ্রয়। ভালোয়, মন্দয় মেশানো পৃথিবীতে পা রাখা সন্তানের প্রথম হিরো। সেই রকমই এক অকুতভয় পিতার লড়াই দেখতে সেদিন বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় তারাতলার কন্টেনার গোডাউনের গর্ভগৃহে প্রবেশ। সেখানেই সেট পড়েছে তরুণ পরিচালক জিৎ চক্রবর্তীর পাঁচ নম্বর ছবি ‘বাবা’র। এই ছবির হাত ধরে প্রযোজনার জগতেও পা রাখলেন জিৎ।
বিদেশে পাচার হতে চলেছে প্রায় দুশোটি সদ্যোজাত শিশু। তারমধ্যে গল্পের হিরো গৌরবের হারিয়ে যাওয়া এক বছরের মেয়েটাও নেই তো? পাহাড় প্রমাণ দৈত্যাকার কন্টেনার ঘেরা শিশু পাচারকারী দেবার ডেরায় হানা দিয়েছেন সিনেমার নায়ক বিক্রম চট্টোপাধ্যায় ওরফে গৌরব। এক মরিয়া পিতার কন্যা সন্তান উদ্ধারের দুঃসাহসিক অভিযান। ওদিকে উৎসবের পরিবেশ। চলছে নাচ, গান। তারমধ্যেও সর্বত্র পাচারকারী দলের সশস্ত্র প্রহরা। গেরিলা কৌশলে একের পর এক দুষ্কৃতীকে ধরাশায়ী করে একটি অতিকায় কন্টেনারের পাশে থমকে দাঁড়ায় গৌরব। অনেকগুলো শিশুর কান্নার শব্দ। না! এগতে গিয়েই গৌরবের মুখোমুখি দেবা আর তার দলবল। শুরু হল ধুন্ধুমার লড়াই। ক্যামেরা চলছে নিজের তালে।
প্রায় ঘন্টা খানেক ‘মারপিট’ করে দৃশ্যতই ক্লান্ত বিক্রম ফিরলেন মেকআপ ভ্যানে। বললেন, ‘সন্তানের জন্য একজন সাধারণ মধ্যবিত্ত বাবা কতটা অসাধারণ হয়ে উঠতে পারে সেটাই এই ছবির মূল বিষয়।’ পাশে বসে পরিচালক জিতের সংযোজন, ‘সন্তানের জন্য একজন বাবার দৈনন্দিন লড়াইটা হয়তো ততটা গ্লোরিফাই করা হয় না। মায়েদেরই বেশি মূল্যায়ন হয়। সন্তানকে বড় করার নেপথ্যে বাবার স্বার্থ ও আত্মত্যাগও কম নয়। এটা বলাই আমার মূল উদ্দেশ্য।’ এই রকম একজন বাবার গল্প সচরাচর সিনেমায় দেখা যায় না বলেই এত কম বয়সে ‘বাবা’র চরিত্রে অভিনয়ে রাজি হওয়া বিক্রমের। তাঁর ব্যাখ্যা, ‘আমরা সাধারণত বেশি বয়সের বাবার গল্প পর্দায় দেখি। যেখানে বাবার বয়স হয়তো ষাট, সন্তানের বড়জোর তিরিশ। এখানে আমি সদ্যোজাত সন্তানের বাবা।’ যে বন্ধুরা সদ্য বাবা হয়েছেন তাঁদের কাছেই দশ-এগারো মাসের বাচ্চা সামলানোর টিপস নিয়েছেন এখনও পর্যন্ত অবিবাহিত অভিনেতা। বিক্রমের কন্যা সন্তানের ভূমিকায় মাত্র এগারো মাসেই সমাজমাধ্যমে বিখ্যাত অশ্লেষা।
এই ছবির ভিলেন দেবরাজ ভট্টাচার্য। নিজেকে বর্ণনা করলেন ‘ভরপুর ভিলেন’ বলে। ‘আমি এখানে শিশু পাচারকারী। ওইটুকুতেই শেষ নয়। বাংলা ছবিতে একটা সময় ভিলেনরা যেমন গুরুত্বের সঙ্গে অনেকটা অংশ জুড়ে থাকত, এই ছবিতে সেই প্রাচীন পরম্পরাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। অভিনয়ের সুযোগ আছে।’ সেইসঙ্গে দেবরাজ ছবির জন্য একটি গান লিখেছেন, সুর করেছেন এবং গেয়েছেনও। ছবিতে অন্যান্য মুখ্য ভূমিকায় আছেন অপরাজিতা আঢ্য, বিশ্বনাথ বসু, কাঞ্চন মল্লিক প্রমুখ। চিত্রনাট্যকার সৌমিত দেব। গানে, সুরে আছেন অমিত চট্টোপাধ্যায়, অন্বেষা দত্তগুপ্তরাও।