সংবাদদাতা, বারুইপুর: মা এক বেসরকারি সংস্থার নার্সিং কর্মী। বাবা লিভার ক্যানসারে মারা গিয়েছিলেন। সংসারে প্রতিমুহূর্তে রয়েছে অভাব। এই পরিবারের মেয়ে বৃষ্টি মাধ্যমিকে সব বিষয়ে লেটার নিয়ে পাশ করে নজির গড়েছে। বৃষ্টি পিয়োর সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করতে চায়। কিন্তু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বৃষ্টি বলে, মা সবরকমে আমার পাশে থেকেছেন এবং বরাবর উৎসাহ দিয়েছেন। আমি ভালো কিছু করে মায়ের পাশে দাঁড়াতে চাই।
বারুইপুরের চম্পাহাটি কাঞ্চন মাঠ এলাকার বাসিন্দা বৃষ্টি। সে চম্পাহাটি গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী। মা শ্রাবণী গায়েন বারুইপুরেই এক বেসরকারি সংস্থায় নার্সিংয়ের কাজ করেন। বৃষ্টির যখন বয়স ছয় বছর তখন তার বাবা শশাঙ্কবাবুর মৃত্যু হয়। বৃষ্টি এবার মাধ্যমিকে ৬৪৮ নম্বর পেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। বাংলায় ৯০, ইংরেজিতে ৯৪, অঙ্কে ৯২, ভৌতবিজ্ঞানে ৯২, জীবনবিজ্ঞানে ৯৩, ইতিহাসে ৯৭, ভূগোলে ৯০ পেয়েছে। বৃষ্টির প্ৰিয় বিষয় অঙ্ক। বৃষ্টির অকপট স্বীকারোক্তি, স্কুলের শিক্ষিকারা এবং এক সংস্থার সুমিত কাকু পড়াশোনায় অনেক সাহায্য করেছেন। বই-খাতার অভাব হয়নি। মা মনের জোর বাড়িয়েছেন। যেটা বেশি দরকার সব পূরণ করেছেন তিনি। তাই এমন ফলাফল করতে পেরেছি। এই কৃতী ছাত্রী জানায়, যখনই সময় পেয়েছি মন দিয়ে পড়েছি। ভবিষতে কী হব, সেই লক্ষ্য এখনো স্থির করিনি। পারিবারিক অভাব রয়েছে। তাই সামর্থ্য বুঝেই এগোব। বৃষ্টির মা শ্রাবণী গায়েন বলেন, মেয়ের জেদ আর পরিশ্রমেই এই রেজাল্ট। অনেক কষ্টে মানুষ করছি ওকে। ওর পড়াশোনার জন্য যা যা করার, করব। পাশে যদি কেউ দাঁড়ান, উপকৃত হব। স্কুলের শিক্ষিকারাও ছাত্রীর ফলাফলে খুশি। তাঁরা বলেন, বৃষ্টি স্কুলের মান রেখেছে।-নিজস্ব চিত্র