নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: আট লক্ষ টাকা পণ না দেওয়ার জন্য খুন হতে হয়েছিল হালিশহরের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ পূজা শর্মাকে। ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঘটনা। ১৩ জনের সাক্ষ্যদান এবং দীর্ঘ বিচার পর্ব শেষে বৃহস্পতিবার পূজাদেবীর শ্বশুর কৃষ্ণকুমার শর্মা, শাশুড়ি লক্ষ্মীদেবী, ননদ অলকা শর্মা এবং দেওর অলঙ্কার শর্মাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিলেন বারাকপুর ফাস্ট ট্র্যাক-২ আদালতের বিচারক সংগীতা চট্টোপাধ্যায়। মামলার সরকারি আইনজীবী শান্তনু চক্রবর্তী জানান, নিহত পূজা শর্মার স্বামী অলক শর্মা এসএসবিতে ভিন রাজ্যে পোস্টিং ছিলেন। তাদের এক বছর তিনেকের বিশেষভাবে সক্ষম সন্তান আছে। এর মধ্যে পূজাদেবী ফের অন্তঃসত্ত্বা হন। তাঁকে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে আট লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। ২০২২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাড়িতেই গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পূজাদেবীর বাবা রাঘব শর্মাকে টেলিফোনে বলা হয়, তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি এসে মেয়ের গলায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন লক্ষ্য করেন। মানতে চাননি যে তাঁর মেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। বীজপুর থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। মৃতদেহের ময়নাতদন্ত রিপোর্টেই স্পষ্ট হয়ে যায়, এটি আত্মহত্যার ঘটনা নয়, খুন। গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে দু’মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই বধূকে। ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের পর ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮ এ, ৩০৪বি, ৩০২, ৩৪১ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় দোষী সাব্যস্তদের। সেই সঙ্গে হয়েছে আর্থিক জরিমানা। বারাকপুর পুলিস কমিশনারের তরফে জানানো হয়েছে, অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে নারী নির্যাতন ও গার্হস্থ হিংসার বিরুদ্ধে সমাজে বলিষ্ঠ বার্তা যাবে বলেই আশাবাদী তারা।



