নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শনিবার সকালে বাগবাজারের নিবেদিতা লেনে একটি নির্মীয়মাণ বহুতলের পাশ থেকে এক বৃদ্ধের অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার করে পুলিস। মৃতকে কেউ চেনে কি না, এলাকায় খোঁজখবর শুরু হয়। তার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর নাটকীয়ভাবে সামনে আসে মৃতের পরিচয়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম সুকান্ত মুখোপাধ্যায় (৭২)। শুক্রবার রাতে বারান্দা থেকে পড়ে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে তিনি বিড়ি খাচ্ছিলেন। সেই আগুনেই ঝলসে গিয়েছে তাঁর দেহ।
শনিবার সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ স্থানীয়রা দেহটি দেখতে পান। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় শ্যামপুকুর থানার পুলিস। প্রাথমিকভাবে নমুনা সংগ্রহের পর দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। বাগবাজার এলাকায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়। স্থানীয়রাই সবাই জানায়, তাদের কারও বাড়ি থেকে কেউ নিখোঁজ হননি। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, অগ্নিদগ্ধ হওয়ার কারণে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়নি। মাথা সহ শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাত রয়েছে। কোনও উঁচু জায়গা থেকে পড়ে গেলে এই ধরনের আঘাত লাগতে পারে। তাহলে কি নির্মীয়মাণ বাড়ির ছাদ থেকে বৃদ্ধকে কেউ ফেলে দিল? তারপর দেহ জ্বালিয়ে দেওয়া হল? পুলিস আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখেও রাত পর্যন্ত মৃতের পরিচয় না জানতে পারায় রহস্য ঘনীভূত হয়।
শেষমেশ জট খোলে গভীর রাতে। সুমন্ত মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি হন্তদন্ত হয়ে শ্যামপুকুর থানায় এসে বলেন, ‘বাবা সকালে কাজে বেরিয়েছিলেন। এখনও ফেরেননি। ফোনটাও বাড়িতে রেখে গিয়েছেন।’ ডিউটি অফিসার তাঁর ঠিকানা জানতে চান। বাগবাজারের নিবেদিতা লেন শুনেই বুঝতে পারেন, সকালে যেখান থেকে দেহ উদ্ধার হয়েছিল, তার পাশের বাড়ির কথাই বলছেন আগন্তুক। তখন বৃদ্ধের দেহ থেকে পাওয়া আংটি সুমন্তবাবুকে দেখানো হয়। অগ্নিদদ্ধ দেহটি তাঁর বাবার বলে জানান সুমন্তবাবু। স্বাভাবিকভাবেই পুলিস তখন প্রশ্ন করে, ‘তাহলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আপনারা কিছু জানালেন না কেন?’ সুমন্তবাবু বলেন, ‘বাবা খুব সকালে কাজে বেরিয়ে যান। প্রতিদিনের মতো এদিনও তিনি কাজে বেরিয়ে গিয়েছেন বলে ভেবেছিলাম। এমন একটা ঘটনা যে ঘটতে পারে, ভাবতেই পারিনি।’ নর্থ ও নর্থ সাবার্বান ডিভিশনের ডিসি দীপক সরকার বলেন, ‘সুকান্তবাবু রাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে বিড়ি খাচ্ছিলেন। বিড়ির আগুন কোনওভাবে তাঁর গায়ে লেগে যায়। তা নেভাতে গিয়ে তিনতলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় তাঁর। ওই অবস্থায়ও আগুন জ্বলতে থাকায় দগ্ধ হয়ে যান তিনি।’