নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নারী দিবসেই বাবার অত্যাচারের শিকার হতে হল এক নাবালিকাকে! যাদবপুর থানা এলাকার ঘটনা। অভিযোগ, বাড়ির তিনতলার বারান্দা থেকে মেয়েকে ঠেলে ফেলে দিয়েছে বাবা। গুরুতর জখম অবস্থায় নাবালিকাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। খুনের চেষ্টার ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে তারা। শনিবার আলিপুর আদালত ধৃতকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
ঘটনার আকস্মিকতায় শিউরে উঠছেন বাসিন্দারা। প্রতিবেশীদের বক্তব্য, শুক্রবার গভীর রাতে আচমকাই ভারী কিছু উপর থেকে পড়ার জোরালো শব্দ শোনা যায়। তাঁরা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে দেখেন, বিধ্বস্ত অবস্থায় রাস্তায় বসে আছে ওই নাবালিকা। তড়িঘড়ি যাদবপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিসের সহযোগিতায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় জখম নাবালিকাকে। সামনের বাড়ির এক বাসিন্দার অভিযোগ, ‘আমি রাতে জানলা দিয়ে দেখি, মেয়েটি দ্বিতীয় তলের সম-উচ্চতায় থাকা তার ধরে ঝুলে আছে। তার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে রাস্তার উপর পড়ে যায়।’ প্রতিবেশীদের অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় মেয়েটির বাবা প্রায়শই বাড়িতে অশান্তি করেন। সপ্তাহ খানেক আগেও ওই বাড়িতে পুলিস এসেছিল। বাবা ও মেয়ে দু’জনেই থাকেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, মেয়েটি যখন খুব ছোট, তখন তারা মদ্যপ বাবার অত্যাচারে জেরবার হয়েই মা ছেড়ে চলে যান। তার ঠাকুমা ও কাকা বেশ কয়েক বছর আগে মারা গিয়েছেন। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে বাড়ির অন্যান্য কাজকর্ম ওই নাবালিকাই করে প্রতিদিন। ধৃত ব্যক্তি একটি ক্যাটারিং সংস্থায় কাজ করে বলে জানা গিয়েছে।
এদিনই বিকেলে ধৃতকে নিয়ে পুলিস ওই বাড়িতে আসে। সেই সময় ধৃত তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে। সে দাবি করে, ‘মেয়েকে আমি ঠেলে ফেলিনি। সমাজ মাধ্যমের বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা করে। বাইরে গিয়েছিল বলে বকাবকি করেছিলাম। তাই রাগে ঝাঁপ দিয়েছে।’ এদিকে, অভিযুক্তকে পাড়ায় দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা বলতে থাকেন, ‘মেয়েটা যদি একবার এসব ঘটনা আমাদের বলত, আমরা আরও আগে ব্যবস্থা নিতাম।’ প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান, খুন করতেই মেয়েকে ঠেলে ফেলে দিয়েছিল বাবা। কিন্তু কী কারণে, তদন্তে সেই উত্তরই খুঁজছে পুলিস।