Bartaman Logo
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরিযায়ী শ্রমিক থেকে মাদক পাচারের কিংপিং, রায়গঞ্জে পুলিশের জালে বাবা-ছেলে

এক সময় ছিল পরিযায়ী শ্রমিক। এখন মাদক পাচারের কিংপিন! বিগত কয়েক বছরে ফুলে ফেঁপে উঠেছে সম্পত্তির পরিমাণ।

পরিযায়ী শ্রমিক থেকে মাদক পাচারের কিংপিং, রায়গঞ্জে পুলিশের জালে বাবা-ছেলে
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নির্মাল্য সেনগুপ্ত, রায়গঞ্জ: এক সময় ছিল পরিযায়ী শ্রমিক। এখন মাদক পাচারের কিংপিন! বিগত কয়েক বছরে ফুলে ফেঁপে উঠেছে সম্পত্তির পরিমাণ। মাদকের টাকায় বিলাসবহুল গাড়ি! তৈরী হচ্ছে দোতলা বাড়ি। দুই সন্দেহভাজনের এই কার্যকলাপ রায়গঞ্জ থানার অধীন কর্ণজোড়া ফাঁড়ির পুলিশের নজরে আগে থেকেই ছিল। তারপর চলে দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ। শেষে কয়েকদিন তক্কেতক্কে থাকার পর বুধবার রাতে বিপুল পরিমাণ মাদক, নগদ টাকা সহ পাকড়াও হয় রায়গঞ্জের মাদকের কিংপিন রবিতুল্লা মহম্মদ ও তার ছেলে রকব্বুল হোসেন ওরফে রব্বুল। এরা রায়গঞ্জেরই খলসি ধুরাইলের বাসিন্দা। কুলিক ব্রিজের কাছে মাদক নিয়ে যাচ্ছিল। পুলিশ সেখান থেকে এদের বমাল আটক করে। ধৃতদের কাছে থাকা একটি বাজারের ব্যাগ থেকে মেলে  বিপুল পরিমাণ মাদক। সঙ্গে বাজেয়াপ্ত হয় নগদ দুই লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। রাজ্যে সরকার যখন মাদকের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স অবস্থান নিয়েছে তখন মাদক সহ বাবা-ছেলে ধরা পড়ায় বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

Advertisement

রায়গঞ্জের পুলিশ সুপার কুলদীপ সোনাওয়ানে বলেন, আর পাঁচজন মাদক পাচারকারীর থেকে এই দুই ধৃতের নেটওয়ার্ক অনেকটাই বেশি বিস্তৃত। তাই এদের পিছনে আরও কারা আছে তার সন্ধান শুরু হয়েছে। এদের সম্পত্তির বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। সেটাও আমরা তদন্ত করে দেখছি।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের দাবি, রায়গঞ্জ শহর ও আশপাশের গ্রামীণ এলাকায় যে মাদক চক্র সক্রিয় তার কিংপিন ধৃত বাবা-ছেলে। এরা এক সময় দিল্লিতে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করত। আর্থিক কষ্টে দিনযাপন করত। বর্তমানে মাদক কারবারের বড়োসড়ো নেটওয়ার্কের সঙ্গে এরা যুক্ত হয়ে পড়েছে! রায়গঞ্জ শহর সহ কর্ণজোড়া, খলসি, মেহেন্দিগ্রাম, শেরপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় মাদকের সাপ্লাই করত। খুচরো মাদক কারবারীরা এদের কাছ থেকে মাদক নিয়ে মাদকাসক্তদের কাছে তা বিক্রি করত। সেই টাকায় হঠাৎ করে এরা ফুলেফেঁপে ওঠে।
পাকড়াও করার পর বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলে। তারপর গ্রেপ্তার করা হয় ধৃত রবিতুল্লা ও রব্বুলকে। মাদক দমন আইনে মামলা রুজু হয়। বৃহস্পতিবার উত্তর দিনাজপুর জেলা আদালতে পেশ করে ধৃতদের দশ দিনের পুলিশি হেফাজতের নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, ধৃত রবিতুল্লা ও রব্বুল দু’জনে মাদক কারবারের আরও বড়ো নেটওয়ার্কের সদস্য। ধৃতদের কেনা একটি বিলাসবহুল গাড়ি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। সেই সঙ্গে ধৃতদের ব্যাঙ্ক লেনদেন তদন্তকারীরা আতস কাচের তলায় আনবে। তাতে আরও কিছু সন্দেহ ভাজনের খোঁজ মিলতে পারে বলে পুলিশের অনুমান। • নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ