সংবাদদাতা, লালবাগ: বাবা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত। সম্প্রতি ছেলেও সেই কারবারে হাত পাকাতে শুরু করে। বাবার কাছ থেকেই সে মাদক কারবারের প্রাথমিক পাঠ নিতে শুরু করেছিল। বাবার সঙ্গী হয়ে ময়দানে নেমে মাদক কারবারের কৌশল রপ্ত করছিল। কিন্তু, শেষরক্ষা হল না। পুলিসের অভিযানে পর্দাফাঁস হল। মঙ্গলবার গভীর রাতে লালগোলা থানার শ্রীমন্তপুর এমএস গার্লস স্কুল সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিস হেরোইন সহ বাবা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের নাম রশিদ রহমান ও মেহেবুব হাসান। তাদের বাড়ি লালগোলা থানার বিলবোরাকোপরা পঞ্চায়েতের মধ্য রামনগরে। বুধবার তাদের আদালতে তুলে হেফাজতে নেয় পুলিস।
ভগবানগোলার এসডিপিও বিমান হালদার বলেন, রশিদ দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত। পূর্বে একাধিকবার সে পুলিসের হাতে পাকড়াও হয়েছিল। ওইদিন গভীর রাতে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বাইকে করে সীমান্তের দিকে যাচ্ছিল। শ্রীমন্তপুরে বাইক দাঁড় করিয়ে তল্লাশি চালানোর সময় বাইকের সিটের নীচের গোপন চেম্বার থেকে ২৮০ গ্রাম হেরোইন বাজেয়াপ্ত হয়। বাজেয়াপ্ত হেরোইনের বাজারমূল্য প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুরুতে রশিদ মাদক কারবারের ক্যারিয়ার হিসেবে হাত পাকায়। পরবর্তীতে সে নিজেই কারবার শুরু করে। মূলত ভিনরাজ্য থেকে হেরোইন নিয়ে এসে বাংলাদেশে পাচার করত। বাংলাদেশে পাচারের সময় কয়েকবার পুলিসের হাতে ধরা পড়েছিল। মাস ছয়েক আগে ছাড়া পেয়ে পুলিসের নজর এড়াতে হাত গুটিয়ে বসেছিল। সম্প্রতি আবার মাদক কারবার শুরু করে। তবে এবার বছরের উনিশের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মাদক কারবার ও পাচারের কৌশল হাতেকলমে শেখাচ্ছিল।
এদিকে পুলিস সোর্স মারফত জানতে পারে, মঙ্গলবার রাতে শ্রীমন্তপুর এলাকা দিয়ে সীমান্তের দিকে হেরোইন পাচার হবে। সেই খবর মতো সন্ধ্যার পর থেকে ওই এলাকায় নজরদারি শুরু হয়। রাত প্রায় ১টা নাগাদ একটি বাইকে চেপে দু’জনকে সীমান্তের দিকে যেতে দেখে পুলিস দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তাদের কথাবার্তায় অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। তখন ওই দু’জন ও বাইকে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশি চালানোর সময় সিটের নীচের গোপন চেম্বার থেকে একটি প্যাকেটে ২৮০ গ্রাম হেরোইন বাজেয়াপ্ত হয়। প্রসঙ্গত, গত দু’মাসে শুধুমাত্র লালগোলা থানা এলাকা থেকে ৩ কেজি ৯৭০ গ্রাম হেরোইন সহ ২০ জন গ্রেপ্তার
হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র