নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের সহায়তায় সাগরের ঘোড়ামারা দ্বীপে নতুন করে কৃষিকাজের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। বছর চারেক আগে ঘূর্ণিঝড় যশের কারণে সমুদ্রের নোনা জল ঢুকে ঘোড়ামারার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি লবনাক্ত হয়ে পড়েছিল। ফলে কৃষিকাজ কার্যত ব্যাহত হয়েছিল এই দ্বীপে। এখানকার মাটির উর্বরতা শক্তি কতটা, তা জানতে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘোড়ামারা পঞ্চায়েত। কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের গবেষকরা ল্যাবরেটরিতে মাটি পরীক্ষা করে উপকারী ব্যাকটেরিয়া কালচার করেন এবং মাটির গুণগত মান অনুযায়ী প্রোবায়োটিক আবিষ্কার করেন। এই প্রোবায়োটিক চাষের কাজে সহায়ক ভূমিকা নিতে পারে কি না, তা যাচাই করতেই শুরু হয়েছে চাষ। পরীক্ষামূলকভাবে একটি বাগানে বানিয়ে সেখানে সবজি চাষ শুরু হয়েছে।সারা বিশ্বের কাছে ডুবন্ত দ্বীপের পরিচিতি কাটিয়ে উন্নয়নের নিরিখে পরিচিত হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখছে রাজ্যের ক্ষুদ্রতম এই পঞ্চায়েত।
একদিকে নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর ভয়, আর অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই— এই দ্বীপের মানুষের রোজনামচা। নদী ঘেরা দ্বীপ ও ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এখানকার মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যা তীব্র। ২০২১ সালে ঘূর্ণিঝড় যশের জেরে ঘটে যাওয়া বন্যা কৃষি নির্ভর দ্বীপটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছিল। মাটিতে লবনের ভাগ বেড়ে যাওয়ায় জমি উর্বরতা হারিয়ে ফেলে, যার প্রভাবে ধান ও পান চাষ প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। অধিকাংশ পরিবার আয়ের খোঁজে ভিন রাজ্যে পাড়ি জমাতে শুরু করে।
পরিস্থিতি সামলাতে একাধিক একাধিক উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেয় স্থানীয় ঘোড়ামারা গ্রাম পঞ্চায়েত। তারই অঙ্গ হিসাবে গত বছর সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের সহযোগিতায় চাষের মাটি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। ইতিবাচক ফল হাতে পাওয়ার পর নতুন করে চাষের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন এই দ্বীপের কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষক শেখ আক্রমের জমিতে ‘এক্সপেরিমেন্টাল অর্গ্যানিক কিচেন গার্ডেন’ বা পরীক্ষামূলক জৈব চাষের বাগান তৈরি করেছে পঞ্চায়েত। সেখানে লাগানো হয়েছে লংকা, পেঁয়াজ সহ বিভিন্ন গাছ। এই মাটিতে প্রোবায়োটিক ব্যবহার করা হয়েছে। এখন কেমন ফলন হয় সেদিকেই তাকিয়ে কৃষকরা। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আম্বিয়া খাতুন বিবি বলেন, আমরা এক চাষির জমিতে পরীক্ষমূলকভাবে এই চাষ করেছি। প্রোবায়োটিক ব্যবহারের ফলে গাছের বৃদ্ধি নজরে এসেছে। ভবিষ্যতে ধান, পান সহ অন্যান্য চাষেও প্রোবায়োটিক ব্যবহারের উদ্যোগ নেব।