


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ঝড়, বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গত দু’দিন ধরে আকাশের মুখ ভার। তাই বোরো চাষের ক্ষতির আশঙ্কা থেকে ধান কাটতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন চাষিরা। তাঁদের দাবি, কালবৈশাখী ঝড় হলেই ধান গাছ নুইয়ে পড়বে। পাশাপাশি এই সময় শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও থাকে। সঙ্গে বৃষ্টির আশঙ্কা তো রয়েছেই। তাই আতঙ্কে পাকা ধান জমিতে ফেলে না রেখে তা কাটতে তাঁরা মাঠে নেমে পড়েছেন।
বর্তমানে বেশিরভাগ জমিতে বোরা ধান পেকে গিয়েছে। কিছু জমিতে কয়েকদিনের মধ্যে পেকে যাবে। আর এই সময় ঝড়, বৃষ্টির পূর্বাভাস চাষিদের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। চাষিদের দাবি, কালবৈশাখীর ঝড় ও তার সঙ্গে বৃষ্টি হলেই পাকা ধানের সিংহভাগ ঝরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। সেই সঙ্গে গাছ নুইয়ে জলে ডুবে থাকলেও ক্ষতি হবে। তাই রামপুরহাট, নলহাটি, ময়ূরেশ্বর সর্বত্র চাষিরা ধান কাটতে মাঠেই নেমেছেন। বাইরে থেকে ধান কাটা ও ঝাড়াইয়ের মেশিনের আনাগোনাও বেড়েছে।
জেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বোরো চাষে বিঘা প্রতি ১১-১২ কুইন্টাল হারে ধানের ফলন হয়ে থাকে। যা আমন চাষের ফলন অপেক্ষা অনেক বেশি। আলু তুলে সেই জমিতে বহু চাষি মিনিকিট ধানের চাষ করেন। পাশাপাশি কোথাও আয়ার ছত্রিশ ও দেরাদুন ধানের চাষ হয়। অধিকাংশ জমির ধান পেকে গিয়েছে। কোথাও ধান পেকে গেলেও গাছ সবুজ হয়ে রয়েছে। এই ধান নির্বিঘ্নে ঘরে তুলতেই ফি বছর চাষিদের উদ্বেগ বাড়ে। এর আগে দু’দিন বিভিন্ন প্রান্তে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে। যদিও তাতে কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ঝড়, বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তার মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়েছে। ফলে গুমোট আবহাওয়ায় চাষিরা কালবৈশাখী ঝড়, বৃষ্টির আশঙ্কা বেশি করতে শুরু করেন। ফলে পাকা ধান জমিতে ফেলে রাখতে কেউ ঝুঁকি নিচ্ছেন না। সোমবার সকালে মেঘলা আকাশ থাকায় দেরিতে সূর্যের মুখ দেখা গিয়েছে। আকাশের পরিস্থিতি দেখে চাষিরা ধান কাটতে কালবিলম্ব করতে চান না।
রামপুরহাটের বড়শাল গ্রামের ক্ষুদ্র চাষি শ্যামাপদ লেট বলেন, তিন বিঘা জমিতে বোরা চাষ করেছি। কিন্তু আকাশের যা অবস্থা, তার উপরে গুমোট গরম। যে কোনো সময় ঝড়, বৃষ্টি হতে পারে। এই চাষের উপরই গোটা পরিবার নির্ভরশীল। ধান নষ্ট হলে ক্ষতি সামাল দেওয়া মুশকিল হয়ে যাবে। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই ফসল তুলে বাড়িতে ধানের গোলা ভরতে মাঠে নেমেছি।
গত বছর বর্ষায় জেলায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছিল। তার জেরে সেচ নালা, খাল থেকে ভূগর্ভে পর্যাপ্ত জল ছিল। ফলে এবার জেলায় রেকর্ড পরিমাণ ১ লক্ষ ১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে বোরোর চাষ হয়েছে। এত দিন এই চাষে সমস্যার মুখে পড়েননি চাষিরা। কিন্তু, ঝড়, বৃষ্টি বেশি পরিমাণে হলে বোরো চাষে ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে চাষিদের।
জেলা কৃষি দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বৃষ্টিতে সবজি চাষিরা উপকৃত হলেও বোরো ধানের পাশাপাশি তিল চাষে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এবছর জেলায় ৫ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে তিলের চাষ হয়েছে বলে কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।