


সংবাদদাতা, মানিকচক: প্রথম দফার ভোট গ্রহণের পর ফুরফুরে মেজাজে মানিকচকের সব দলের প্রার্থী। চতুর্মুখী লড়াই হলেও জিতবেন বলে দাবি করছেন তৃণমূল প্রার্থী। বিজেপি প্রার্থীর কথায়, তিনি এবার ২০ হাজারের বেশি ভোটে জিতবেন। মানুষের রায় মাথা পেতে নেবেন বলে জানিয়েছেন সিপিএম ও কংগ্রেস প্রার্থী।
মানিকচক বিধানসভায় মোট ভোটার ২ লক্ষ ৩৫ হাজার ৭৬৯। যার মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৭০ জন। যা প্রায় ৯৪.৮৪ শতাংশ। এত বেশি ভোট পড়ায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর। তাঁদের সব হিসেব ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তিনদিন ধরে সমস্ত বুথের হিসাব করার পর ফুরফুরে মেজাজে প্রার্থীরা।
এবার জয় সহজ হবে না, সেটা টের পেয়েছেন সকলে। যারাই জিতুক, জয়ের ব্যবধান একেবারে কম হবে বলে দাবি রাজনৈতিক দলগুলির। মানিকচক বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, মানিকচক বিধানসভার মোট ভোটারের মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ২৬ হাজার হিন্দু। যার মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ১৯ হাজার ভোট পেয়েছে বিজেপি। সংখ্যালঘু ভোট ভাগাভাগি হয়েছে বলে নিশ্চিত জয় দেখছে তারা। বিজেপি প্রার্থী গৌরচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ভোটদানের হার প্রমাণ করছে মানুষ এবার পরিবর্তন চাইছে। ৪ মে সবাইকে পিছনে ফেলে ২০ হাজারের বেশি ব্যবধানে জিতব।
গত তিনদিন ধরে ব্লক কার্যালয়ে পর্যালোচনার পর তৃণমূলের দাবি, প্রার্থীর জয় নিশ্চিত। সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথামতো এসআইআরের জবাব দিতে তৃণমূলকে ভোট দিয়ে দিয়েছেন। তাই জিতবে তৃণমূল। প্রার্থী কবিতা মণ্ডল বলেন, গত নির্বাচনে এই বিজেপি প্রার্থীকেই প্রায় ৩৪ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক সাবিত্রী মিত্র। পঞ্চায়েত ভোটে আমার কাছেও হেরেছেন তিনি। আরেকবার হারবেন। কংগ্রেস ও সিপিএমের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে এবার।
যদিও সিপিএম প্রার্থী দেবজ্যোতি সিনহা নিজের কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ পর্ব শেষ হতেই রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে ব্যস্ত। তার মধ্যেই সমস্ত অংক কষে ফেলেছেন তিনি। তৃণমূল নয়, মানিকচকে বিজেপির সঙ্গে সিপিএমের লড়াই বলে দাবি।
দেবজ্যোতি বলেন, দলীয় কোন্দলের কারণে তৃণমূল এখানে তৃতীয় স্থানে থাকবে। বিজেপিকে আটকাতে পারবে একমাত্র সিপিএম। ৪ মে দেখা যাবে কার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
কংগ্রেস প্রার্থী আনসারুল হক বলেন, মানুষের রায় বাক্সবন্দি। কোনো বিতর্কে না গিয়ে ফল মাথা পেতে নেব।