


সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ভোটদান পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। ইভিএমে বন্দি প্রার্থীদের ভাগ্য। আগামী ৪মে গণনা। তার আগে জঙ্গিপুর মহকুমার ছ’টি আসনেই জয়লাভের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী ঘাসফুল শিবির। স্থানীয় ‘ভোট সেনাপতি’দের জন্যই এই মহকুমায় দলীয় প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন বলে শাসকদলের জেলা নেতৃত্ব মনে করছে।
ভোটের পর এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে ঘাসফুল শিবিরে। প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় জয়ের লক্ষ্যে বিশেষ সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। তাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল স্থানীয় নেতাদের। তার উপর ভর করেই এবার ভোট বৈতরণি পার করার স্বপ্ন দেখছে তৃণমূল।
জঙ্গিপুর বিধানসভায় জাকির হোসেনের প্রচার ও সাংগঠনিক কাজে বড়ো ভরসা ছিলেন গৌতম ঘোষের মতো স্থানীয় নেতারা। রঘুনাথগঞ্জের লড়াইয়ে আখরুজ্জামানের বড়ো ভরসা ছিলেন ইউসুফ শেখ ও প্রাক্তন ব্লক সভাপতি সমিরুদ্দিন বিশ্বাস। সূতিতে ইমানী বিশ্বাসের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রচারে চষে বেড়িয়েছেন সেরাজুল ইসলাম ও মাসুদ রানা। সামশেরগঞ্জে ভোট পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আনারুল হক, জাকির হোসেন ও সামিউল হক। এই তিনজনের ভোট পরিচালনার উপর ভরসা করেই জয়ের স্বপ্ন দেখছেন তৃণমূল প্রার্থী নুর আলম। ফরাক্কায় আমিরুল ইসলামের হয়ে হাবিব পারভেজ টনি এবং সাগরদিঘিতে বাইরন বিশ্বাসের হয়ে সামশুল হোদা বহু দায়িত্ব সামলেছেন।
তৃণমূল সূত্রে খবর, এই ভোট সেনাপতিরা শুধু সাংগঠনিক দক্ষতা নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পও মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন। তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, মানুষ তৃণমূল সরকারের উন্নয়নের কাজ দেখেছেন। সংগঠনের প্রতিটি স্তরে কর্মীরা যেভাবে কাজ করেছেন, তাতে জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলায় ন’টি আসনেই আমাদের জয় নিশ্চিত।
তবে জয়ের বিষয়ে আশাবাদী বিরোধী শিবিরও। জঙ্গিপুরের বিজেপি প্রার্থী চিত্ত মুখোপাধ্যায় বলেন, আমাদের বুথস্তর থেকে সমীক্ষার কাজ চলছে। তবে জয়ের বিষয়ে আমরা ১০০শতাংশ আশাবাদী। সবমিলিয়ে, ৪ মে ফলাফল কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে জঙ্গিপুরের মানুষ। জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজের এলসিডিতে নজরদারি চালাচ্ছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। -নিজস্ব চিত্র