সংবাদদাতা, বেলদা: পরপর দু’বার সুবর্ণরেখা নদীর জলস্ফীতিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে দাঁতন-১ ব্লকের নদী তীরবর্তী এলাকার চাষিরা। অতিবৃষ্টি এবং ঝাড়খণ্ডের গালুডি ব্যারাজ থেকে দফায় দফায় জল ছাড়ার ফলে বড়বাঘড়া, বালিডাঙরি, নৈকুলবঁইচা, কুঞ্জবাঘড়া সহ একাধিক গ্রামের কয়েকশো হেক্টর কৃষিজমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। আমন ধান থেকে শুরু করে বিঘার পর বিঘা সবজি খেত-জলে ডুবে নষ্ট হয়েছে। ফলে চাষি ও খেতমজুর পরিবারে এখন নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন। ক্ষতিপূরণ মিলবে কি না, তাঁরা সংশয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এখন নতুন করে চাষের খরচ জোগাড় করা তো দূরের কথা, সংসার চালানোই তাঁদের কাছে চ্যালেঞ্জ।
চাষিদের বড়ো আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জটিলতা। নদী তীরবর্তী অন্তত চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিস্তীর্ণ জমির ফসল নষ্ট হলেও সরকারিভাবে এখনো এই পরিস্থিতিকে ‘বন্যা’ হিসাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে ক্ষতিপূরণ আদৌ মিলবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম সংশয়। চাষিদের দাবি, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট তৈরি করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হোক।
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার চাষিদের প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার আওতায় ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে। বিমা সংস্থার আধিকারিকরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরই ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। কিন্তু, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে সময় লাগার আশঙ্কাতেই দুশ্চিন্তায় কৃষকরা।
বিধায়ক ভদ্র হেমব্রম বলেন, দাঁতন-১ ব্লকের নদী তীরবর্তী চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েকটি গ্রামের চাষের জমিতে সুবর্ণরেখার জল ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা যাতে দ্রুত ক্ষতিপূরণ পান, সেই বিষয়ে সরকার নজর রাখছে। পাশাপাশি ঋণগ্রস্ত চাষিদের কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে।-নিজস্ব চিত্র