Bartaman Logo
২২ জুলাই, ২০২৬

এবার আন্দোলনে কৃষকরা, দিল্লি সীমানা সিল করে দিল পুলিশ

দিল্লিতে কৃষকদের আন্দোলন জোরদার, পুলিশের সীমানা সিল। কৃষক নেতাদের দাবি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। বিস্তারিত পড়ুন।

এবার আন্দোলনে কৃষকরা, দিল্লি সীমানা সিল করে দিল পুলিশ
  • ২২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ছাত্রছাত্রীদের পর কৃষক। সর্বভারতীয় কিষান সংগঠনগুলির দিল্লি চলো অভিযান আটকানোর উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার বেনজির নিরাপত্তার কড়াকড়ি করল পুলিশ প্রশাসন। ‘সিল’ করে দেওয়া হল বিভিন্ন সীমানা। শুধু তাই নয়। একাধিক কৃষক নেতাকে গৃহবন্দি করে রাখার মতো গুরুতর অভিযোগও তোলা হয়েছে। পাঞ্জাব-হরিয়ানার শম্ভু সীমানা, দিল্লি-উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর সীমানায় কার্যত তৈরি হল যুদ্ধ পরিস্থিতি। কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে দিল্লি-হরিয়ানার সিঙ্ঘু এবং তিক্রি সীমানায়। সীমানা এলাকাগুলিতে ব্যস্ত এক্সপ্রেসওয়েতে গার্ডরেলের ব্যারিকেড দিয়ে প্রায় প্রতিটি গাড়িতে এদিন নজরদারি চালিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। 

Advertisement

সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির মিছিলে ছাত্রছাত্রীদের উপর বেধড়ক লাঠি চালিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। মুড়ি মুড়কির মতো ছোড়া হয়েছে কাঁদানে গ্যাস। তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহতই আছে। মঙ্গলবার অবশ্য কৃষকদের মিছিল আটকানোর জন্য সীমানা ‘সিল’ করা হলেও বিক্ষোভকারীদের উপর কোনোরকম বলপ্রয়োগ না করার নির্দেশ ছিল পুলিশের উপর। সেইমতোই পদক্ষেপ করেছে তারা। দিল্লির কিষান ঘাটেও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন কৃষকরা। সোমবার ছাত্রছাত্রীদের উপর পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদে এদিন বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল সর্বভারতীয় কৃষক সংগঠনগুলি। তেমনই তাদের এজেন্ডায় ছিল আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদও। সর্বভারতীয় কৃষক নেতৃত্ব অভিযোগ করেছেন যে, ইন্দো-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদিত হলে দেশের গরিব চাষিদের না খেতে পেয়ে মরতে হবে। বিক্ষোভরত কৃষকদের আন্দোলনের ঝাঁজ আঁচ করতে পেয়ে মঙ্গলবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুর নরম করেছে বিজেপি সরকার। পাঞ্জাব হরিয়ানার শম্ভু সীমানায় গিয়েছেন হরিয়ানার মন্ত্রী শ্যাম সিং রানা। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সঙ্গে আন্দোলনরত কৃষকদের বৈঠক করিয়ে দেওয়ার ব্যাপারেও সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এদিন শ্যাম সিং রানা বলেন, ‘কৃষক নেতারা আমাকে একটি স্মারকলিপি পেশ করেছেন। তাঁদের প্রতিটি দাবি খতিয়ে দেখা হবে। আগামী সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে কৃষক নেতৃত্বের সঙ্গে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর বৈঠক করানোর চেষ্টা করব। যদি একান্তই শিবরাজ সিং চৌহানের সময় পাওয়া না যায়, তাহলে কৃষিমন্ত্রকের উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করানো হবে।’ কৃষক নেতাদের গৃহবন্দি করে রাখার মতো যে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেই ব্যাপারেও হরিয়ানার বিজেপি সরকারের মন্ত্রী এদিন শম্ভু সীমানায় দাঁড়িয়েই পুলিশের কাছে খোঁজখবর নেন। সরকারের থেকে আশ্বাস মেলার পর বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত রেখেছে কৃষকরা। সীমানা আটকে বসে থাকা হবে না বলেও জানিয়েছে তারা। মঙ্গলবার কৃষকদের পাশাপাশি মোদি সরকারের অস্বস্তি বাড়িয়েছে ককরোচ জনতা পার্টিও। দ্বিগুণ উদ্যমে ফের দিল্লির যন্তরমন্তরে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছে বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত অবস্থান বিক্ষোভ চলবেই। এদিন যন্তরমন্তরে যান আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল, এনসিপি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে, শারদ পাওয়াররা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ