


সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: বাজারে আলু বিক্রি করে তেমন দাম মিলছে না। অথচ যে বস্তায় আলু ভরা হয়, তা দ্বিগুণ দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে চাষিদের। ফলে হিমঘরে আলু পাঠাতে গিয়ে মাথায় হাত চাষি ও আলু ব্যবসায়ীদের। অসাধু কারবারিদের কারসাজিতেই বস্তার দাম বেড়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন চাষিরা। গত বছর রাজ্যে আলুর ফলন হয়েছিল প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ মেট্রিক টন। এই বছর তা এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়েছে। ফলন বেশি হওয়ায় বাজারে দাম মিলছে না সেভাবে। অথচ খরচ বেড়েছে চাষের। ঋণ নিয়ে চাষ করে এখন দেনায় ডুবেছেন চাষিরা। এদিকে, রাজ্য সরকার কুইন্টাল পিছু ৯৫০ টাকা দরে আলু কেনা শুরু করেছে। তবে সর্বাধিক ৭০ বস্তা পর্যন্ত আলু বিক্রি করতে পারবেন কৃষকবন্ধুরা। তাহলে বাকি আলু কী হবে? বাধ্য হয়েই খোলা বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে চাষিদের। কেউ কেউ ভবিষ্যতে দাম বাড়ার আশায় হিমঘরে আলু রাখছেন। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বস্তা। খালি বস্তা কিনতে গিয়ে পকেট খালি হচ্ছে চাষিদের। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগে মুনাফা লুটছে বলে অভিযোগ। তারকেশ্বরের মির্জাপুর গ্রামের এক চাষি বলেন, এক বিঘা জমিতে ৭০ বস্তার উপর আলু হয়। গত বছর বস্তা কিনেছি ৯-১১ টাকার মধ্যে। এই বছর সেই বস্তাই বিক্রি হচ্ছে ১৮-২০ টাকায়। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বস্তা মজুত করে চড়া দরে বিক্রি করছে। কালোবাজারি করতে লক্ষ লক্ষ বস্তা মজুত করেছে তারা। পশ্চিমবঙ্গ প্রোগ্রেসিভ পট্যাটো গ্রোয়ারস অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি স্বপন সামন্ত বলেন, শুধু আমাদের রাজ্য নয়, সারা দেশেই এবার আলুর ফলন ভালো হয়েছে। ফলে বস্তার চাহিদাও বেড়েছে। উত্তরপ্রদেশ সহ বেশ কিছু রাজ্যে আগে পাটের বস্তা ব্যবহার হত। পাটের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সেখানেও এখন প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার হচ্ছে। গোটা দেশেই প্লাস্টিকের বস্তার চাহিদা এখন তুঙ্গে। ফলে চাহিদা তৈরি হওয়ায় দাম বেড়েছে। ভোটের আগে বস্তার দাম দ্বিগুণ হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, তৃণমূলের নেতারাই অসাধু চক্রের সঙ্গে জড়িত। শাসকদল অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কারণ যাই হোক, আলুর দাম না থাকলেও বস্তা কিনতে গিয়ে ফের দেনার দায়ে ডুবছেন চাষিরা। নিজস্ব চিত্র