নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এক গুছিতে সর্বোচ্চ ৭০টি করে পান বিক্রি করতে পারবেন কৃষকরা। সরকারি নির্দেশে গত ডিসেম্বর থেকে এই নিয়ম চালু হয়েছিল। কিন্তু তারপর দুই, আড়াই মাস যেতে না যেতেই ফের বেনিয়ম শুরু হয়েছে পান বাজারগুলিতে। অভিযোগ, কোথাও কৃষকদের গুছিতে ১০০-১৫০টি করে পান বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে, কোথাও সেটা ২৫০-৩০০টি। ফলে লাভের চেয়ে বেশি লোকসান হচ্ছে তাঁদের। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এই পরিস্থিতি বলে অভিযোগ পানচাষিদের।
আড়তদারদের একাংশও নানাভাবে এর জন্য দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। পানচাষি সংগঠনগুলি সরকারের কাছে এই নিয়ে বারে বারে দরবার করেছে। কিন্তু এখনও কোনও সুরাহা হয়নি। উল্লেখ্যযোগ্য বিষয় হল, এই সরকারি নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে একটি গুছিতে দুশোর বেশি করে পান বিক্রি করতেন কৃষকরা।
এই চাষের সঙ্গে যুক্ত কিছু কৃষক বলেন, গুছিতে ৭০টি করে পান বিক্রি করে লাভের টাকা ঘরে তুলতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু এখন তার দ্বিগুণ পান বিক্রি করে লোকসান ভোগ করতে হচ্ছে। সূত্রের খবর, আড়তদারদের চাপে কাকদ্বীপ পানবাজারে আপাতত এক গুছিতে কেউ ১০০ কেউ বা ১৫০টি করে পান বিক্রি করছেন। কিন্তু মেদিনীপুরে সেই সংখ্যাটি ৩০০ থেকে ৩৫০। হঠাৎ কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, সেটাই বোঝা যাচ্ছে না। গুছিতে ৭০টি পান দেওয়ার নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর বিভিন্ন ব্লকে গিয়ে সব মহলের সঙ্গে বৈঠকে করেছিলেন কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্না। তারপরও সেই নিয়ম মানা হচ্ছে না কেন, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। পান ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুরজিৎ পট্টনায়ক বলেন, সরকারি নিয়ম লাগু হওয়ার পর কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছিল। লোকসান ঝেড়ে ফেলে লাভ করছিলেন তাঁরা। কিন্তু বর্তমানে ফের আগের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকার কারণে এবং আড়তদারদের চাপে এখন দিশাহারা কৃষকরা। তাই সরকারের উচিত এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। - নিজস্ব চিত্র