Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফরাক্কা: পুলিসকে লক্ষ্য করে বোমা, জখম ৩ সিভিক ভলান্টিয়ার ও ২ পুলিসকর্মী

মারপিটের ঘটনায় জড়িতদের ধরতে গিয়েছিল পুলিস। কিন্তু সেই দুষ্কৃতীদের ছোড়া বোমার আঘাতে তিনজন সিভিক ভলান্টিয়ার গুরুতর জখম হলেন।

ফরাক্কা: পুলিসকে লক্ষ্য করে বোমা, জখম ৩ সিভিক ভলান্টিয়ার ও ২ পুলিসকর্মী
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: মারপিটের ঘটনায় জড়িতদের ধরতে গিয়েছিল পুলিস। কিন্তু সেই দুষ্কৃতীদের ছোড়া বোমার আঘাতে তিনজন সিভিক ভলান্টিয়ার গুরুতর জখম হলেন। দু’জন পুলিসকর্মীও অল্পবিস্তর জখম হয়েছেন। বুধবার রাতে ফরাক্কার শিবনগরে এঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিস ছয় দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। জখমদের অর্জুনপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসার পর রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়। ওইদিন বিকেলে নেশাগ্রস্ত যুবকদের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসার জেরে মারপিটের ঘটনা ঘটেছিল। খবর পেয়ে গ্রামে দুষ্কৃতীদের ধরতে গিয়ে পুলিস আক্রান্ত হয়।

Advertisement

জঙ্গিপুরের পুলিস সুপার অমিতকুমার সাউকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা রিসিভ করেননি। মেসেজেরও কোনও উত্তর দেননি। ফলে এবিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
পুলিস সূত্রে খবর, ওইদিন বিকেলে ফরাক্কার শিবনগরে একদল দুষ্কৃতী মদ্যপান করছিল। সেখানে আরও একদল দুষ্কৃতী হাজির হলে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা বেধে যায়। একসময় তা হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছয়। অভিযোগ, এক যুবককে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁর কান কেটে গিয়েছে। স্থানীয়রা উভয়পক্ষকে শান্ত করেন। জখম যুবককে বেনিয়াগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তখনকার মতো পরিস্থিতি শান্ত হলেও সন্ধ্যায় ফের উত্তেজনা ছড়ায়। সেসময় আক্রান্ত যুবক হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা করিয়ে এক ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা তাঁদের পথ আটকে ফের মারধর করেন। এক যুবক সেখান থেকে কোনওরকমে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
খবর পেয়ে ফরাক্কা থানার পুলিস ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয়। পুলিস অপর আক্রান্ত যুবককে উদ্ধার করে। এরপর পুলিস দুষ্কৃতীদের খোঁজে স্থানীয় লালমাটি মাদ্রাসার কাছে যেতেই আটজন দুষ্কৃতী হাজির হয়ে অতর্কিতে পুলিসকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে। এতে তিনজন সিভিক ভলান্টিয়ার গুরুতর জখম হন। বোমার স্প্লিন্টারে তাঁদের শরীরে ক্ষত হয়েছে। তিন সিভিকের মধ্যে একজনের শরীরে পাঁচটি ও অপর একজনের দু’টি সেলাই পড়েছে। বাকি এক সিভিক ভলান্টিয়ার ও পুলিসকর্মীরা অল্প জখম হয়েছেন। বোমা ছুড়লেও পুলিস দুষ্কৃতীদের মধ্যে ছ’জনকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয়। বাকি দু’জন পালিয়ে যায়।
অর্জুনপুর পঞ্চায়েতের সদস্য আক্তার হোসেন বলেন, এলাকায় সমাজবিরোধীরা ঝামেলা পাকিয়েছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিস গেলে তাঁদের লক্ষ্য করেও দুষ্কৃতীরা বোমা ছুড়েছিল। তিনজন সিভিক ভলান্টিয়ার জখম হয়েছেন। আমরা চাই, পুলিস অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তি দিক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ