সংবাদদাতা, কাটোয়া: বারবণিতাদের হাত ধরেই কার্তিকপুজো শুরু হয়েছিল কাটোয়ায়। সেই পুজোকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন ‘বাবু’রা। কাটোয়ার এই কার্তিক পুজোয় এখন উৎসবে মেতে ওঠেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। কাটোয়ায় নানা নামে পূজিত হন দেবসেনাপতি। জামাই কার্তিক, ন্যাংটা কার্তিক, বাংড়া কার্তিক দেখতে দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ কাটোয়ায় আসে। ভাগীরথী পাড় লাগোয়া কাটোয়া শহরে একসময় লবণের ব্যবসা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। ভাগীরথীর পাড়ে লবণগোলা পাড়া সেই ইতিহাসের সাক্ষী। নদীকেন্দ্রিক ব্যবসার প্রসার ঘটায় শহরে নানা সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, জমিদার বসবাস করতেন। আর নদীর পাড় বরাবর চুনারীপাড়ায় থাকতেন বারবণিতারা। জানা গিয়েছে, সেই বারবণিতাদের হাত ধরেই ‘ন্যাংটা কার্তিক’ পুজো শুরু হয়েছিল। তারপর ‘বাবু’ সমাজ এই কার্তিক পুজোর পৃষ্ঠপোষকতা শুরু করে। ধীরে ধীরে শহরে শুরু হয় কার্তিক লড়াই। শহরের দু’টি রাস্তার মোড়ে শোভাযাত্রা সহ বাবুদের ঠাকুর বের করা হতো। পুজোয় বাজনা, ফরাসের আলোর ব্যবস্থায় একে অপরকে টেক্কা দিতেন বাবুরা। সেটাই কার্তিক লড়াই। সেই ন্যাংটা কার্তিক পুজো এখন সর্বজনীন রূপ পেয়েছে। এখানে মনস্কামনা পূরণে নানা মানত করেন বাসিন্দারা। এখানকার বাংড়া কার্তিকও ব্যতিক্রমী। এখানে বাংড়া কথার অর্থ যোদ্ধা। যুদ্ধের দেবতা বলেই এমন নাম দেওয়া হয়েছে।



